আর্মেনিয়া প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে

আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া যুদ্ধ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ বৈঠকের পর গত সপ্তাহে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল বিবদমান দুই পক্ষ। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামেনি। আজারবাইজানের সরকার এ বার দাবি করল, আর্মেনিয়াই প্রথম যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছিল। সে কারণেই তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

আজারবাইজানের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যানজায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আর্মেনিয়ার সেনা। আর্মেনিয়া সীমান্ত থেকে গানজার দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিতর্কিত এলাকা নাগোরনো-কারাবাখ থেকে গানজার দূরত্ব প্রায় ৯৭ কিমি।

সেখানে আজারবাইজানের সেনা অবকাঠামোও নেই। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আক্রমণের ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া যুদ্ধের সাধারণ নীতিও মানছে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বস্তুত, আজারবাইজান জানিয়েছে, গানজায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বহু। এর মধ্যে শিশুও আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ওই দিনের হামলার পর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গানজার একটি অংশ। রাতারাতি এতিম হয়ে গেছে অনেক শিশু। আজারবাইজানের প্রশাসন ওই শিশুদের এখন হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সংবাদকর্মীদেরকে ওই শিশুরা জানিয়েছে, কীভাবে চোখের সামনে তারা তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে মারা যেতে দেখেছে। কী ভাবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে তারা। তবে সব শিশু প্রাণে রক্ষা পায়নি। গানজার হাসপাতালগুলোতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে বহু শিশু।

প্রথম থেকে আজারবাইজানের দাবি অস্বীকার করা আর্মেনিয়া বৃহস্পতিবারও জানিয়েছে, আজারবাইজানের সেনা কাঠামো লক্ষ্য করেই তারা হামলা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাদের লক্ষ্য নয়।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শুধু গানজা নয়, আজারবাইজানের একাধিক শহরে সাধারণ মানুষের ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে আর্মেনিয়ার ছোড়া রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে।

আজারবাইজান জানিয়েছিল, আর্মেনিয়ার রকেট এবং মিসাইল লঞ্চার প্যাড ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আজারি সেনা। ওই লঞ্চপ্যাড থেকেই আজারবাইজানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ দেশটির।

এ দিকে আর্মেনিয়ার অভিযোগ, যুদ্ধের নামে নাগোরনো-কারাবাখকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে আজারি সেনা। সেখানকার আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে। অবশ্য নাগোরনো-কারাবাখ থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে আসছেন বলে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থাও জানিয়েছে।

সেখানেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে বলে জানিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

এক দিকে রাশিয়া, অপর দিকে ইরান বারবার দুই দেশকে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠানর জন্য বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ কমিটি একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু দুইটি দেশই এখনো পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

রাজনীতি/কাজল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here