ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড

ক্রীড়া ডেস্কঃ ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ মানেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য। সেটা দুই দলের মধ্যে গত ২০ বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। গত ২০ বছরে দুই দল ইংল্যান্ডের মাটিতে মোট ১৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫টিতে। অপরদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে মাত্র ১টি ম্যাচে। আর ড্র হয়েছে ৩টি ম্যাচ। এই ২০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যতবার এসেছে ততবারই ধরাশায়ী হয়েছে। ফলে ৩ ম্যাচের এই সিরিজটিতেও ইংলিশদের আধিপত্য থাকবে বলে প্রায় সব ক্রিকেটবোদ্ধারাই বলেছিলেন।

এবারের সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ইংল্যান্ডের বদলে এখন পর্যন্ত শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ম্যাচের তৃতীয়দিন সব উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের ২০৪ রানের জবাবে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান করেছে ক্যারিবিয়ানরা। ফলে ইংল্যান্ডের চেয়ে ৩১ রানে লিড পেল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। হাতে আছে আরো ৫ উইকেট। একপ্রান্তে আগলে রেখে ব্যাট করছেন রসটন চেজ। ১১৫ বল খেলে ২৭ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি।

এদিকে সিরিজের এই ম্যাচটির আগেই জানা গিয়েছিল পেসারদের স্বর্গরাজ্য হবে রোজ বোলের পিচ। সেটিকে সত্য প্রমাণিত করে টসে হেরে বোলিং করতে নেমে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ওপর স্টিম রোলার চালান দুই ক্যারিবিয়ান পেসার জেসন হোল্ডার ও শেনন গ্যাব্রিয়েল। তারা যথাক্রমে ৬টি ও ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে ম্যাচের দ্বিতীয়দিনই মাত্র ২০৪ রানে আটকে দেন। তাদের গতির নিচে চাপা পরে ইংল্যান্ডের কেউ সেঞ্চুরি দূরে থাক হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। ম্যাচটিতে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে ২০১০ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পর প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ৫ বা তার বেশি উইকেট তুলে নেয়ার কীর্তি দেখান হোল্ডার।

এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়দিনই ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এদিন মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তোলে তারা। দ্বিতীয়দিনে খেলা শেষ হওয়ার আগে তারা হারায় শুধু জন ক্যাম্পবেলের উইকেটটি। তাও দলীয় ৪৩ রানের মাথায়। আউট হওয়ার আগে ক্যাম্পবেল ২৮ রান করেন। ক্যাম্পবেল আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন সাই হোপ। তিনি দেখেশুনে খেলে ওপেনার গ্রেইগ ব্রাথওয়েটের সঙ্গে দ্বিতীয়দিনটা পার করে দেন। এরপর আজ তৃতীয়দিন আবার তারা ব্যাটিংয়ে নামেন। তারা দুজন মিলে পার্টনারশিপ গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। তবে দলীয় ১০৪ ও ব্যক্তিগত ১৬ রানের মাথায় ডম বেসের বলে ক্যাচের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান সাই হোপ। অন্য প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন ওপেনার ব্রাথওয়েট। সাই হোপ আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন ব্রুকস। তিনিও ব্রাথওয়েটের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তবে তাদের পার্টনারশিপের স্থায়িত্ব হয় মাত্র ৩৮ রানের। দলীয় ১৪০ রান ও ব্যক্তিগত ৬৫ রান করে ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকসের বলে এলবিডবিøও আউট হয়ে যান ব্রাথওয়েট। আর এতে করেই ভেঙে যায় তাদের জুটি। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন রসটন চেজ।

রাজনীতি/আফজাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here