ইউএনও’কে বাঁচাতে গিয়ে বাবাও জখম

ওয়াহিদা খানম ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর: নিজের সরকারি বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন তার বাবাও।

তাদেরকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, ওয়াহিদা খানমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তাকে রংপুর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওয়াহিদার বাবা ওমর আলী শেখকে (৭০) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম।

পুলিশ, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। মেয়েকে বাঁচাতে এলে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে জখম করে। তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাতের কারণে হাড় ভেঙে সেটা ব্রেনে ঢুকে গেছে। তার এক সাইড অবশ হয়ে আছে। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আমরা একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাত ৯টার দিকে এটা করা হতে পারে।

হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ইউএনও আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই আছেন। ব্লাডপ্রেসার, পালস এগুলোর উন্নতি না হলে এবং উনার যদি জ্ঞানের মাত্রার আরো অবনতি হয় তাহলে কিন্তু… উনি যথেষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছেন। যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউএনওর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয় জানিয়ে চিকিৎসক আরো বলেন, উনার চিকিৎসার জন্য সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

জঘন্যতম এই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন ওয়াহিদা খানমের মা। তিন বছরের নাতিকে নিয়ে বর্তমানে তিনি রংপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যে আক্রমণ করেছেন; সে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে; আমার মেয়ে ঘুমে ছিল। সে সময়ে আক্রমণ করেছে। তখন সে (ওয়াহিদা) চিৎকার করে বলেছে, আব্বা দেখেন-তো কোন বেয়াদব বাসায় ঢুকেছে। যখন গেটের কাছে এসেছে, তখন তারা বাবাকে ধরেছে।

তিনি আরো বলেন, তার চেহারা দেখতে পারেনি, মুখ ঢাকা ছিল। তার সাইজ-টা খাটো। একজনই ভেতরে ঢুকেছে।

ইউএনওর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বাসার সামনের সিসিটিভি ফুটেজে হালকা গড়নের কমবয়সী দুইজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে তাদের চেহারা অস্পষ্ট, চেনা যাচ্ছে না। তারা ইউএনওকে হাঁতুড়ি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করেছে বলে মনে হচ্ছে।

জড়তিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি, খুব দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।

এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সকাল ৭টার দিকে ইউএনও’র বাবার জ্ঞান ফিরলে লোকজনকে ডাকাডাকি করেন। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ওমর আলী পুলিশকে বলেছেন, রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে কেউ একজন বাসায় ঢোকে। ওয়াহিদা খানম টের পেয়ে এগিয়ে গেল তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় ওমর আলী এগিয়ে গেলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই বাসা থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এটি ডাকাতির চেষ্টা, না ‘আক্রোশ’ থেকে কেউ হামলা করেছে, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

রাজনীতি/কাজল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here