উপরেও পানি, নিচেও পানি দুর্ভোগের উপর দুর্ভোগ

টানা বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে বানভাসিদের দুর্ভোগ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: টানা বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে বানভাসিদের দুর্ভোগ। নিচেও পানি, উপর থেকেও পড়ছে পানি- ভাসছে বানভাসি। টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে আবারো ব্রহ্মপুত্রের পানি। দুর্ভোগের উপর দুর্ভোগ, চরম বিপাকে দিন পার করছেন পানিবন্দি মানুষজন। চিলমারী-কুড়িগ্রাম সড়কে হাঁটু পানিতে রান্না করছেন আমেছা। স্বামী ভ্যানচালক এখন অসুস্থ। করোনার কারণে লকডাউনে বের হতে পারেনি ভ্যান নিয়ে আমেছার স্বামী মঞ্জু মিয়া। যদিও বের হতেন পুলিশ আর প্রশাসনের ভয়ে পালিয়ে থাকতেন।

লকডাউন চলাকালীন একদিন পুলিশের ভয়ে পালানোর সময় পায়ে আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মঞ্জু মিয়া। পুরোপুরি সুস্থ না হতেই আমেছা অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বন্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন থেকে কর্মহীন থাকার পর এবার বন্যা তাদের কষ্টের চাকার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। একই অবস্থা হোসনে আরার। বাড়িঘর ছেড়ে সড়কে আশ্রয় নিলেও তলিয়ে গেছে সড়কটিও। শুধু আমেছা আর হোসনেআরা নয় তাদের মতো বেশকিছু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে কেচি সড়কে আশ্রয় নিলেও সেটিও গেছে তলিয়ে। ফলে পানির উপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এর উপর টানা বৃষ্টি তাদের চরম বিপাকে ফেলেছে। জানা গেছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবড়িশাল এলাকায় বাড়ি থাকলেও নদী ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে সদর থানাহাট ইউনিয়নের বিজয় নগরে কেচি সড়কের পাশে প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী-সন্তান নিয়ে আশ্রয় নেয় আমেছা। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়েই চলতো সংসার।


কিন্তু করোনাভাইরাস আর লকডাউন তাদের জীবনে এনে দেয় দুঃখ-কষ্ট আর সেই সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয় চলমান বন্যা। অনেক আগেই বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় কেচি সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছিল পরিবার নিয়ে কিন্তু সেটুকুও তলিয়ে গেলে উপায় না থাকায় পানির উপরেই কষ্টে দিনাপাত করছেন। সঙ্গে বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে কষ্টের উপর কষ্ট।


আমেছা জানায়, করোনার সময় কর্মহীন হয়ে থাকলেও তখনো তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো সহায়তা এবং চলমান বন্যায় কষ্টে থাকলেও খবর নেয়নি কেউ। একই অবস্থা হোসনে আরার। ৪/৫ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে স্বামী-সন্তানসহ আশ্রয় নিয়েছেন কেচি সড়কের পাশে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সবকিছু। এরপর ঠায় হয়েছে সড়কে। বাড়িতে পানি, ঘরে পানি, আশ্রয় নেয়া সড়কেও পানি।


চারদিকে বন্যার পানি। সঙ্গে উপর থেকেও পড়ছে পানি। এতে তাদের দুর্ভোগ দিয়েছে আরো বাড়িয়ে। আমেছা, হোসনে আরাসহ কেচি সড়কে আশ্রয় নেয়া বানভাসিরা জানান, প্রায় ১ সপ্তাহ থেকে পানিবন্দি থাকলেও খবর নেয়নি কেউ তাদের। এলাকার সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেচি সড়কের পাশে বসবাসকারীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এখানে রাস্তার পাশে বাড়ি করেছে। ফলে ভোট ও এলাকার জটিলতা থাকায় বরাবর এই মানুষগুলো বন্যা বা দুর্ভোগের কবলে পড়লেও তাদের সাহায্য পাওয়া বড় সমস্যা হয়ে যায়। তারা আরো জানায়, এক কথায় ছিটমহলের মতো তাদের জীবন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এডব্লিউ এম রায়হান শাহ্‌ বলেন- ধারাবাহিকভাবে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

রাজনীতি/কাজল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here