নান্দনিক রুপে গড়ে উঠছে সোনাদীঘি

সোনাদীঘি রাজশাহী ।

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন মহানগরীকে সুপরিকল্পিত ও আধুনিক ভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মত মেয়র লিটন দায়িত্ব নেবার পর নানান ধরনের উন্নয়নের মেগা প্রকল্প হাতে গ্রহণ করেছে। এছাড়াও ২০০৮ সালে প্রথম বারের মত দায়িত্ব নিলে মহানগরী অল্প দিনের মধ্যেই উন্নয়নের রুপ নেয়। বদলে যেতে থাকে রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন শপিংমলের চিত্র।

২০১৩ সালে বিএনপি প্রার্থী মেয়রের দায়িত্ব নিলে থমকে যায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। তবে ২০১৮ সালে পুনরায় জনগণের রায় নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব নিলে রেখে যাওয়া কাজ গুলো পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ফলে বর্তমানে মেয়র লিটন মহানগরীকে নিয়ে চলেছেন উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে।

এই উন্নয়নের যাত্রাই রাসিক মেয়র লিটনের উদ্যোগে রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সোনাদীঘি নান্দনিক রুপে গড়ে উঠছে । সোনদীঘিকে আধুনিকরণের জন্য ২০০৮ সালে প্রথম মেয়াদে মেয়র লিটন প্রথম উদ্যোগ নেয়। ফলে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রুপ পেতে যাচ্ছে।

রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সোনাদীঘি।

এক সময় সোনদীঘি ছিলো নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। চারপাশ ছিলো মনোরম পরিবেশে বেড়ে উঠা উন্মুক্ত স্থান। সোনাদীঘির পানি ছিলো খুবই স্বচ্ছ যা দিয়ে বাড়ীর গৃহস্থলীর যাবতীয় কাজ করা হতো। মেয়র লিটনের সুষ্ট পরিকল্পনায় দিঘিকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাটার পথসহ মসজিদ। গড়ে উঠবে উন্মুক্ত মঞ্চ ও তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার।

পদ্মা নদীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল দীঘি। এতে ভরা বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি ঢুকত দীঘিতে। নদীর ঘোলা পানি থিতিয়ে যাওয়ার পর দেখা মিলত স্বচ্ছ পানির। ১৯৮০-৮১ সালের দিক থেকে সোনাদীঘির চারপাশে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়। ঢাকা পড়ে সোনাদীঘির মুখ। রাস্তা থেকে আর সোনাদীঘি দেখা যেত না তখন। এখন সোনাদীঘিকে দেখা যাবে অন্তত তিন দিক হতে। সোনাদীঘির উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। ফলে এটি যে কারো নজর কাড়বে ।

জানা যায়, ২০০৯ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) এর আওতায় ‘এনা প্রপার্টিজ’ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে ১৬ তলাবিশিষ্ট ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণ ও সোনাদীঘিকে সাজানোর চুক্তি করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের প্রথম মেয়াদের সময়কালে (২০০৮-১৩) এর নির্মাণকাজ এগোলেও পরবর্তী ৫ বছর কাজ বন্ধ হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর সিটি সেন্টার ও সোনাদীঘিকে সাজানোর কাজে গতি ফেরান মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সোনাদীঘিকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ ও সাজানো শেষে সিটি সেন্টার হবে অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র আর সোনাদীঘি হবে দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র। সোনাদীঘিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার পুরো চিত্রই পাল্টে যাবে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ঐহিত্যবাহী সোনাদিঘী পাড়ে নবনির্মিত সিটি সেন্টার হবে রাজশাহীর সবচেয়ে চমৎকার আধুনিক বহুতল ভবন।

সোনাদীঘিকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করা হবে। নির্মিত হবে নতুন মসজিদ। থাকবে বসার ও হাটার রাস্তা এবং উন্মুক্ত জায়গা। রাতে আলোকায়ন করা হবে।

রাজনীতি/বাতেন/তারেক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here