পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে যুবকের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ড্রাম ও পৌরসভার গাড়ী ময়লা অপসারণের কিছু আলোকচিত্র।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে আশরাফুল হক সোহেল (৩৯) নামের এক ব্যবসায়ি যুবক নিয়েছেন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। তিনি নিজ খরচে পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা, সরকারী-বেসরকারী অফিস ভবনের সামনে
স্থাপন করেছেন ময়লা ফেলার প্লাস্টিক ড্রাম। আর তাতে লেখা ‘‘নির্দিষ্টস্থানে ময়লা ফেলুন, পরিচ্ছন্ন কালীগঞ্জ গড়ুন’’।

আশরাফুল হক সোহেল কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ভাদার্ত্তী গ্রামের মাজহারুল হক সুরুজের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন নতুন সোনালী ব্যাংক মোড়ে সুরুজ মার্কেটে ফুলের ব্যবসা করেন।

সোহেলের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবেও বেশ সাড়া পড়েছে, ভাসছেন প্রসংশা বন্যায়। তবে নিজ উদ্যোগে ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ড্রাম স্থাপন করলেও ড্রামে ফেলানো সেই ময়লা প্রতিদিন পৌরসভার গাড়ী এসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

সরিজমিনে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে সোহেল পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা, সরকারী-বেসরকারী অফিস ভবনের সামনে ময়লা ফেলার প্লাস্টিক ড্রাম স্থাপন করেছেন। আর সেখানে স্থানীয়রা ওই ড্রামগুলোতে ময়লা ফেলে তার ‘‘নির্দিষ্টস্থানে ময়লা ফেলুন, পরিচ্ছন্ন কালীগঞ্জ গড়ুন’’ শ্লোগানকে সার্থক করছেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ির সাথে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে শহর পরিচ্ছন্ন করার সোহেলের উদ্যোগকে সবাই স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রতিদিন গাড়ী দিয়ে সেই ময়লা অপসারণের জন্য।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোক্তা আশরাফুল হক সোহেলের সাথে।

তিনি প্রতিবেদককে জানান, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে এই পর্যন্ত ৩০টি প্লাস্টিকের ড্রাম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়দের প্রয়োজনের ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানেও দেওয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের ড্রাম। পর্যায়ক্রমে আরো স্থান বৃদ্ধি করা হবে। কারণ এই উদ্যোগটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে তার এ কাজে সহযোগীতার জন্য পৌরসভার মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ পৌর মেয়র মো. লুৎফুর রহমান বলেন, প্রতিটি মানুষকে সমাজে বেঁচে থাকতে হলে কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। সোহেলও সামাজিক মানুষ হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে শহর পরিষ্কারে এগিয়ে এসেছেন। বর্তমানে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসে এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। পৌর এলাকার প্রতিটি মানুষ সোহেলের শ্লোগানের সাথে একাত্ম হয়ে নিদিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিচ্ছন্ন কালীগঞ্জ পৌরসভা গড়ে তুলে তাঁর প্রয়াসকে সফল করতে হবে।

রাজনীতি/কাজল/ইমরান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here