পর্দা উঠল স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবের

বিনোদন প্রতিবেদক প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০২১

প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা হীরালাল সেনকে উৎসর্গ করে তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। করোনা মহামারির কারণে এবার অনলাইনে আয়োজিত হয়েছে উৎসবটি।

উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. বদরুল আরেফীন, চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াৎ, নির্মাতা অমিভাত রেজা চৌধুরী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা মিমি। সঞ্চালনা করেন শিল্পী নবনীতা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে এম খালিদ বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে যারা শিল্পকে সৃষ্টি করেছেন তা শুধুই কেবল ছবিই নয়, সমাজের কিছু বাস্তবচিত্র, মানুষের মনের গভীরে লুক্কায়িত কষ্ট এবং কখনো কখনো এসব একেবারে বাস্তব মনে হয়। অনেকে চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে এমন মেধার নৈপূণ্য ফুটিয়ে তোলেন, দেখে মনে হয় বাস্তবের দৃশ্য। এসব অভিনয় দেখে হেসেছি, কেঁদেছি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে এবারের উৎসবটি স্বশরীরে করতে না পারা অত্যন্ত বেদনার। ঘরে বসে ল্যাপটপ কিংবা ইউটিউবে ছবি দেখা আর হলে বসে বড় পর্দায় ছবি দেখার মধ্যে বিস্তর ফারাক। করোনার কারণে সেই জায়গাটি আমরা হারিয়েছি। তবে আশায় বুক বেঁধে আছি করোনা শেষ হলে বাংলাদেশে আমরা আবার এমন উৎসবের আয়োজন করব।

উৎসবটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। একডেমির ইউটিউব চ্যানেলে নির্ধারিত সময়ে ছবিগুলো দেখা যাবে। ছবির শিডিউল পাওয়া যাবে একাডেমির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায়।

উদ্বোধনী আয়োজন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। শুক্রবার প্রদর্শিত হয় অপরাজিতা সংগীতার ‘রিভোল্ট’, হাসনাত সোহানের ‘প্রাচীন কয়েকটি গাছ’, সারা বিনতে আফজালের ‘আশ্রয়’, জাহিদ গগণের ‘রিউমার: আ সোশ্যাল টিউমার’, ওয়াহিদ রাজের ‘বায়োস্কোপ’, ফরিদ আহমেদের ‘আনতারা’, সাহিল রনির ‘মানুষ’ এবং মো. সোহেল রানার ‘হাউসের ধুয়া’।

এবারের উৎসবে সারা দেশ থেকে প্রায় ৪০০টি ছবি জমা পড়েছে। সেখান থেকে ১১৯টি ছবি দেখানো হবে। এর মধ্যে ৮১টি কাহিনিচিত্র ও ৩৮টি প্রামাণ্যচিত্র।

উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র দুটি বিভাগে মোটি সাতটি পুরস্কার দেওয়া হবে। বিভাগগুলো হলো- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বিশেষ জুরি। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ও শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় আরও চারটি পুরস্কার দেওয়া হবে।

উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১ লাখ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ১ লাখ, বিশেষ জুরি পুরস্কার ৫০ হাজার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এবারের উৎসবে বিভিন্ন বিষয়ে ক্লাস নেবেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী, শবনম ফেরদৌসী, অপু রোজারিও। বিশেষ ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের লিংক পাওয়া যাবে একাডেমির ফেসবুক পাতায়।

রাজনীতি/এসকে

আপনার মতামত লিখুন :