পুরান ঢাকার মজাদার কাচ্চি বিরিয়ানি

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ খাবারের আভিজাত্য মানেই পুরান ঢাকা। পুরান ঢাকার নাম শুনলেই মাথায় ঘোরে মজাদার সকল খাবারের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করার সুবাদে পুরান ঢাকার নারিন্দায় প্রায় বছরখানেক থাকার পরেও তখন এখানকার বিখ্যাত কিছুই খাওয়া হয়নি। চাচার বাসায় থেকে কেবল পড়াশোনা নিয়েই বুঁদ হয়ে ছিলাম। কয়েকবার রেস্টুরেন্টে চাইনিজ, থাই খাবার খাওয়া হলেও এখানকার কাচ্চি, হাজির বিরিয়ানি, চকবাজারের ইফতারি- এসব কিছুই চেখে দেখা হয়নি।

তারপর বেশ কয়েক বছর কেটে যাওয়ার পর চাচাতো বোনের মেয়ের জন্মদিনে দাওয়াত পেলাম। সেই দাওয়াতে কাচ্চি খেয়ে বুঝলাম, পুরান ঢাকার কাচ্চি কী জিনিস! বাসমতি চালের সুবাস জিভে জল এনে দেওয়ার মতো। ভালোভাবে রান্না করা নরম তুলতুলে খাসির মাংস, একটু পর পর মুখে তুলে নেওয়া গ্রাসের সাথে টক-মিষ্টি আলুবোখারা- কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলব? এমনি এমনি তো আর এত সুনাম হয়নি!

এরপর থেকে পুরান ঢাকায় দাওয়াত পেলে কিছুতেই মিস করি না আমি। এতক্ষণ তো বললাম সদ্য রান্না করা ধোঁয়া ওঠা গরম কাচ্চির কথা। এই কাচ্চির স্বাদই দ্বিগুণ বেড়ে যায়, যখন পরদিন ফ্রিজে রাখা বাসি বিরিয়ানিটাকে চুলোয় হালকা পোড়া পোড়া করে গরম করে খাওয়া হয়। ওটার সাথে বুঝি কোনো খাবারেরই তুলনা হয় না!

এই সেদিনও আপুর বাসায় আরোও একটা দাওয়াত খেয়ে এলাম। তারপর থেকে খালি কাচ্চি খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু চাইলে কি আর পুরান ঢাকার দাওয়াতের কাচ্চি খাওয়া যাবে? তাই ভাবলাম, হোটেল রেস্টুরেন্টের কাচ্চি খেয়ে আসি। ঠিক করেছিলাম, নামকরা কোনো রেস্টুরেন্টে ঢুকবো না। নারিন্দা নেমে হাঁটতে শুরু করব, তারপর চোখের সামনে যে রেস্টুরেন্ট পড়বে, সেটাতেই ঢুকে পড়বো কাচ্চি খেতে।

ধোলাইখাল রোড ধরে রায় সাহেব বাজার যাওয়ার পথে চৌরাস্তায় পেলাম নিউ আম্বর বিরিয়ানি পট। তখন বাজে বেলা চারটা। বিরিয়ানি কি পাব? ভাবতে ভাবতে সেদিকে এগিয়ে গেলাম। জিজ্ঞেস করতেই জানতে পারলাম, আছে। ভিতরে ঢুকে হাত মুখ ধুয়ে বসে পড়লাম।

আমি এসেছিলাম একাই। একটা হাফ কাচ্চি আর এক গ্লাস বোরহানি অর্ডার করলাম। মিনিটখানেকের মধ্যে খাবার চলে এলো।

প্রথমেই বোরহানির গ্লাসে ছোট্ট একটা চুমুক দিলাম। বোরহানিটা দেখতে ভালো না দেখালেও, খেতে বেশ হয়েছে। এরা বাসমতি চালের কাচ্চি বানায় না। সাধারণ পোলাওর চালের কাচ্চি। তবে ঘ্রাণ দারুণ। রংটাও।

সবাই দেখি কাচ্চির আলু নিয়ে খুব মাতামাতি করে। একসময় আলু খুব পছন্দের সবজি ছিল। কিন্তু যখন থেকে আলু খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি, তখন কাচ্চির আলু হোক আর নিরামিষের আলু- কোনোটাই ভালো লাগে না। এটায় আলু দিয়েছে খুব ছোট একটা টুকরো। ছোটো টুকরো হওয়ায় খুশি হলাম। খেয়েও ভালো লাগলো।

কাচ্চির রাইস দিয়ে ঢেকে রাখা ডিম বের করে পাশে রাখলাম। সেদ্ধ ডিম আমার পছন্দ নয়। ডিম না দিয়ে কাবাব দিলে বেশি খুশি হতাম। যাই হোক, খেতে শুরু করলাম। স্বাদ ভালো, মাংসটা ভালোভাবে রান্না হয়েছে। হবেই না কেন? এরা কেবল বড় এক টুকরো মাংস দিয়ে রাঁধেনি, মাঝারি সাইজের মাংস দিয়েছে। তিন টুকরো মাংস ছিল খাবারে। একটায় নরম হাড় সহ। সময় নিয়ে ছোট ছোট লোকমা মুখে তুলে, বোরহানির গ্লাসে ছোট ছোট চুমুক দিয়ে বেশ উপভোগ করলাম খাবারটা। খাবার শেষে নরম হাড় চিবিয়েছি আয়েশ করে। একা একা খাওয়ার এই এক সুবিধা। হাড় খেতে গেলে বাধা দেবার কেউ নেই।

পেটে ক্ষুধা থাকায় হোক, কিংবা কাচ্চি খাওয়ার খুব ইচ্ছার কারণেই হোক, কাচ্চিটা ভালো লেগেছে আমার কাছে। ১০ এ ১০ দেওয়ার মতো নয়, তবে অন্তত খেয়ে কেউ ভাববে না, টাকাটা জলে গেল।

এখানকার খাবারের তালিকায় অন্যরকম একটা খাবারের নাম পেলাম। কবুতর বিরিয়ানি। খেতে কেমন হবে, তাই ভাবছিলাম। সবসময় পাওয়া যায় কি না তাজিজ্ঞেস করা হয়নি। অবশ্য আমি কবুতর বিরিয়ানি খেতে আম্বর বিরিয়ানি পটে যাব না। আস্ত কবুতর সবাই ভালো রাঁধতে পারে না। তবে কবুতর খেতে পছন্দ করেন যারা তারা এই আইটেমটি চেখে দেখে আসতে পারেন।

পরিমাণ

একজনের জন্য যথেষ্ট। আমি তো শেষ দিকে খেয়ে শেষ করতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, কোয়ার্টার নিলেই বোধহয় ভালো করতাম।

নাম

নিউ আম্বর বিরিয়ানি পট

পরিবেশ

পরিবেশ ভালো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। একসাথে ৫০ জন বসার মতো জায়গা আছে।

সার্ভিস

সার্ভিস বেশ ভালো। হাফ কাচ্চি অর্ডার করার পর বিনীত ভাষায় দাম বলে দিয়েছিল। কারণ তাদের চার্টে হাফ কাচ্চির দাম লেখা নেই।

মূল্য

খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি (হাফ) – ১৫০ টাকা
খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি (কোয়াটার) – ৮০ টাকা
বোরহানি (প্রতি গ্লাস) – ২০ টাকা

অবস্থান

পুরান ঢাকার ধোলাইখাল চৌরাস্তার ঋষিকেশ দাস রোডে। নারিন্দা রোডের বিপরীতে।

লেখকঃ নুসরাত বিনতে হাসনাত, বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজনীতি/সাদিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here