পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কিছু সদস্যের কারনে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়

কামাল হোসেনঃ পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমদ নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, রোববার ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়। তদন্তে পুলিশ হেফাজতে রায়হানকে নির্যাতনের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন।

রায়হানের মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবারের ভাষ্য হল, শনিবার পুলিশ তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। বলা হয়, টাকা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। পরদিন মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানার পর রায়হানের মা তার চাচাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান।

কিন্তু পুলিশ তা নিতে রাজি হয়নি। পরে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হলেও ততক্ষণে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সত্য হয়ে থাকলে এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি- এক. ঘুষ দাবি এবং দুই. নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের এ ঘটনাসহ ঢাকা ও বাগেরহাটে পুলিশ হেফাজতে চারটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ভিকটিমকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গোটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় জড়িত না হলেও বাহিনীর কিছু সদস্যের কারণে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সৃষ্টি হয় আস্থার সংকট। কাজেই প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এ ধরনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু রোধে দেশে আইন রয়েছে। নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করার সুযোগ আছে। কিন্তু আইন থাকলেও এর তেমন প্রয়োগ নেই।

এর কারণ এ ধরনের ঘটনায় মামলা করতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভয় পায়। সেক্ষেত্রে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় অবশ্য মামলা করা হয়েছে। জানা যায়, মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। আমরা আশা করব, এর মধ্য দিয়ে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় রায়হানের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে, এটাও কাম্য।

লেখকঃ কামাল হোসেন, প্রাবন্ধিক

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here