প্রকল্প পরিচালক যখন ঠিকাদার, প্রাণীসম্পদে ১৭ কোটি টাকা লোপাট!

প্রাণীসম্পদ প্রকল্পের পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস ।

বিশেষ প্রতিবেদক: উপকুলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণীসম্পদ প্রকল্পের পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস গুনেগুনে ঘুষের টাকা বস্তায় ভরেন। প্রকল্পের ছয়টি খাত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি প্রায় ১৭ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাতভূক্ত প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষ এই প্রকল্প চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের সাতটি জেলার ১৬ উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নে কাজ চলছে।

প্রকল্পের সুফলভোগীর সংখ্যা ৩৪,৪০৮। প্রতিটি ইউনিয়নে ৫০৬ জন সদস্য এর মধ্যে ১০০ জন ৩টি করে ভেড়া, ১টি ঘর, ৫৭ কেজি খাদ্য ও ঔষধ এবং টিকা পাবে। ১৫০ জন পাবে ২০ টি করে মুরগী, ১৪৩ কেজি খাদ্য, ১ টি কাঠের ঘর ঔষধ ও ভ্যাকসিন। এছাড়াও আরও ৬ জন ঘাষচাষের সুবিধা পাবে।অপর একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজের টেন্ডার হওয়ার আগেই পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস তার নিকট আত্মীয় অভয়, সমীর, শ্যামসুন্দর, ও আরিফকে দিয়ে ২, ৩৭৫ টি হাঁস, ও মুরগীর ঘর বনিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করেছেন।

পরবর্তীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এন মল্লিক এন্ড কোম্পানীর কাছ থেকে বিল করে নগদ ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা নিয়ে নেন। এ ঘটনায় পিডি ঠিকাদারের মাঝে দ্বদ্ব দেখা দিলে একটি সমঝোতা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্যতিত পিডির লোকজন কোন ঘর বানাতে পারবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এখনও পর্যন্ত পিডি তার আত্মীয়-স্বজন দিয়ে ঘর বানিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্যান্য মালামাল পিডি নিতাই চন্দ্র দাস ঠিকাদার হয়ে নিজেই বিতরন করেছেন।প্রকল্পের ৬ টি খাত থেকে মালামাল ক্রয় বাবদ ষোল কোটি চুয়াল্লিশ লাখ আটশত টাকা প্রকল্প পরিচালক ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস একাই আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ভেড়া ক্রয় থেকে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।

মুরগী থেকে ৫ কোটি ৪ লক্ষ টাকা, হাঁস থেকে ২ কোটি, খাদ্য থেকে ৪ কোটি ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা টাকা, ব্যাগ থেকে ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা, প্রশিক্ষণ মডিউল থেকে ৩৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৮ শত টাকা ও প্রশিক্ষণ খাত থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা পিডি নিতাই হাতিয়ে নিয়েছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ আছে। উপকুলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণীসম্পদ প্রকল্পের ৭ টি জেলার ১৬ টি উপজেলায় প্রশিক্ষনার্থীদের গড়ে ১ শত ব্যাচ করে প্রতি ৩ দিন করে ৪,৮০০ দিন প্রশিক্ষণ হবার কথা। কিন্তু পিডি একই দিনে ১৬ উপজেলার ক্লাস নিচ্ছেন। এবং প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তাদের ক্লাসের সম্মানী বাবদ আরও ৪৮ লক্ষ টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়েছেন।

তিনি তার মনোনীত মাষ্টাররোল কর্মচারী দিয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন।অপরদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এন মল্লিক এন্ড কোম্পানীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তাদের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস ১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সেই ঘুষ দেয়ার ভিডিও দৃশ্য এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে পিডি রাজধানীর খামারবাড়ীস্থ তার দফতরে টেবিলের উপর টাকার বান্ডিল রাখছেন। তিনি গুনেগুনে পরিত্যক্ত একটি সিমেন্টের ব্যাগে টাকাগুলো ভরছেন।প্রকল্পের পিডি পদে পদে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সমস্যার ফাঁদে ফেলে আরও অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখনও পিডি ঠিকাদারকে কাজ করতে বাঁধা দিচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠেছে ওয়ার্কঅর্ডার ছাড়া একই স্থানে ঠিকাদার ও পিডির লোক কিভাবে কাজ করতে পারে। ৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি নিতাই ইচ্ছেমত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।দৈনিক রাজনীতির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে উপকুলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণীসম্পদ প্রকল্পের পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাসের রাজধানীর ফার্মগেটের সোঁনালী ব্যাংক শাখার একটি একাউন্টে যার হিসাব নং- ০১১৪৯০১০১০২৯৫।

উল্লেখিত হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ ঘুষের টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংকের জমা রশিদগুলো এ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে চলছে হরিলুট কারবার। প্রকল্প পরিচালক নানা ফন্দি-ফিকিরে লুটপুটে খাচ্ছে পুরো বাজেটের সিংহভাগ। এ ব্যাপারে পিডি ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ভাল কাজ তার দুশমনেরা মেনে নিতে পারছেন না। এ জন্য তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

রাজনীতি/সাজ্জাদ/মাসুদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here