বাঘায় পৌরসভার হস্তক্ষেপে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ

বাঘায় পৌরসভার হস্তক্ষেপে অবশেষে রাস্তা ঘেঁষে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা: অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাঘা পৌরসভার চক নারায়ণপুর পালপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ ঘেঁষে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে বাঘা পৌরসভার হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুরের পালপাড়ার সার্বজনিন দূর্গামন্দির হয়ে গ্রামের মধ্যে যাতায়াতের রাস্তা ঘেঁষে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মান করছিলেন মৃত হরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে স্বপন কুমার সাহা ও বিশ্বজিত সাহা। জনস্বার্থে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পালপাড়ার গ্রামের মধ্য দিয়ে পৌরসভা কর্তৃক রাস্তাটি পাঁকা করা হয়েছে। এই রাস্তায় এলাকার জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন না হলেও তেমন কোন যানবাহন চলাচল করতে পারেনা বলে রাস্তাটি সম্প্রসারণের দাবি ছিল সেখানকার বসবাসকারির অনেকের। এছাড়াও অন্যর জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি সেই রাস্তা ঘেষে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের কাজ করায় পৌরসভায় অভিযোগ করেন পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ার গ্রামের অপূর্ব সাহা, নিহারঞ্জন পান্ডে বাবু, শেফালি, রমেশ সাহা ও ডাঃ উত্তম কুমার সাহাসহ এলাকার ১৪জন ।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আমিন (সার্ভেয়ার) দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারনের দিন ধার্য্য করেন পৌর কর্ত্তৃপক্ষ। কিন্তু পেশীশক্তির দাপটে বিষয়টি জটিল মনে করে, সার্বিক বিবেচনায় নির্বিঘ্নে দূর্গাপূজা উৎসব করার নিমিত্তে আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার সকালে সীমানা নির্ধারণের পুণঃ দিন ধার্য করে প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাদি-বিবাদিকে জমির কাগজপত্রাদি নিয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এর পরেও অর্দৃশ্য শক্তির দাপটে কাজ করছিলেন বলে জানা যায়। পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরেজমিন পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

অপরদিকে “দি মিউনিসিপ্যাল রুলস এর আইন মোতাবেক পৌর কর্ত্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে ইমারত নির্মাণ কাজ করার অভিযোগেও ১৩ অক্টোবর প্যানেল মেয়র (২) আলাউদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি পত্র দিয়ে কারণ উল্লেখ পূর্বক পত্র প্রাপ্তির ৩ কর্য্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়। একই সাথে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বাদি নিহারঞ্জন বাবু ও বিবাদি স্বপন কুমার সাহা ও বিশ্বজিত সাহাকে অবগত করানো হয়। (যার স্বারক নম্বর বাঃপৌঃ/বাঘা/প্রকৌঃ শাখা/২০১৯-২০২০/৫৪২) ।

সরেজমিন কথা হলে অভিযোগকারিদের একজন অপূর্ব সাহা বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের দাবিতে পৌরসভায় রাস্তা ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন। এটি হলে কেন্দ্রিয় মন্দিরে যানবাহন নিয়ে যাতায়াতের সুৃবিধা হবে। তার দাবি,তাদেরসহ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন লোকজনের জমিতে রাস্তা করা হয়েছে। যিনি প্রাচীর নির্মাণ করছেন,তিনি কোন জমি ছাড়েননি।

অপরদিকে স্বপন সাহা বলেন, বাবার তৈরি বাড়ির উপরে কাজ করছি। আগে থেকেই নিজের সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর দেওয়া ছিল। এবারের বর্ষায় সেই প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙ্গে গিয়েছিল। সেটা সংস্কার করার সময় অভিযোগ দিয়েছে। ফায়সালার জন্য পৌরসভা কর্তৃক (১৬ অক্টোবর) যে তারিখ দিয়েছিলেন ওই তারিখে বসে যদি সমাধান করে দিতেন তাহলে আমার জন্য ভাল হত। কারণ পূজাতে আমার বোন ও তার মেয়ে চিত্র নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম গ্রামের বাড়িতে আসবেন।

সেই আলোকে পূজার আগে সীমানা প্রাচীরের কাজ করছিলাম। তার দাবি, আমাদের জমিও রাস্তার জন্য দেওয়া আছে। তবে সমাজের প্রয়োজনে যদি জায়গা ছেড়ে দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করতে হয় সেটা করব। সেই সাথে তার ও উত্তম ডাক্তারের বাড়ির উত্তর পাশের সরকারি রাস্তার জমি অন্যরা নিজেদের দখলে নিয়েছে। একই সাথে সেটাও উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ পূঁজা উদযাপন পরিষদ এর বাঘা উপজেলা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার (বাকু) পান্ডে বলেন,সেখানে একজনের জমি আরেকজনের মধ্যে চলে গেছে। সেই সমাধানের জন্য পৌরসভায় অভিযোগ দেওয়ার আগে চেষ্টা করা হয়েছে। সেটা না হওয়ায় পৌরসভার হস্তক্ষেপে আগামী ৩১ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যা সিনহা মিমের মা ছবি রানী, ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা সম্প্রসারনের কথাও আমাকে বলেছেন।


বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র (১) শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন, পৌরসভায় অভিযোগ করেছে। কয়েকদিন পর হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজা। তাই সবার কথা ভেবে আগের তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ৩১ অক্টোবর জমির সীমানা মেপে কাজ করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে উপরোক্ত তারিখ পর্যন্ত রাস্তা ঘেষে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান,ফোন পেয়ে শৃঙ্খলা রক্ষাতে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here