‘ভুল বোঝাবুঝি’ ক্ষান্ত দিলেন সরকারের দুই সিনিয়র মন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক প্রকাশিত : ২২ জুন ২০২১

সুনামগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে পারস্পরিক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে বলে ক্ষান্ত দিলেন সরকারের দুই সিনিয়র মন্ত্রী। মঙ্গলবার এ নিয়ে রাজধানীতে ভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গত দুই-তিনদিন ধরে তাদের একে অপরের বিপক্ষে কথা বলা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দেয়। দেশের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হয়।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ঢাকা-সিলেট রেললাইন প্রকল্পের মধ্যে যে সুনামগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রয়েছে সে সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। পরিকল্পনামন্ত্রী আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ নিয়ে আমি পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এটাতে খুব বিষ্মিত হয়েছি। মান্নান সাহেবের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ৫০ বছরের। আমাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একটা ছোট ঘটনা নিয়ে এত হৈচৈ কেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রেললাইন অতি পুরনো। এটা একেবারে‌ রদ্দিমাল। এ জন্য সরকার ঢাকা-সিলেট রেললাইনকে ব্রডগেজ করার একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় বেশি বলে তা স্থগিত হয়ে আছে। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি অনেক কারণে এই প্রকল্পের ব্যয় বেশি। এর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে রেলপথ যাবে বলে গার্ড ওয়াল দিতে হবে। সিলেট এলাকার নদীগুলো খরস্রোতা বলে রেলসেতুগুলো চওড়া ও মজবুত করে নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া সিলেটে ট্রেনের ডিপো করতে হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বড় কোনো মতবিরোধ নেই। তার সঙ্গে আমার ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক। আমার মনে হয় আরও বেশি সময় ধরে সম্পর্ক। অথচ সুনামগঞ্জের ৫ এমপিকে নিয়ে তিনি রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিলেন। আমি সুনামগঞ্জের এমপি উনি ভালোভাবেই জানেন। আমার সঙ্গে কথা না বলেই রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন। তিনি আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারতেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তার কাজ বিশ্বব্যাপী, আমার কাজ গ্রাম নিয়ে। গ্রামের মানুষকে একটা স্যানিটেশন সুবিধা তৈরি করে দিলেই আমি খুশি। পাশের বাসার মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আমি খুশি।

ড. মোমেনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দাবি করে এম এ মান্নান বলেন, আমরা দুজনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য। আমাদের টিম লিডার প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে দুজনেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন নেই।

সুনামগঞ্জের স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে আপনার বাহাস চলছে-এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কী কারণে এটা হচ্ছে আমি জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। হয়তো কোনো কারণে মনোমালিন্য হতে পারে।

রাজনীতি/এসকে

আপনার মতামত লিখুন :