মসজিদ মিশনকে ‘জামায়াতমুক্ত’ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মসজিদ মিশন একাডেমিকে ‘জামায়াতমুক্ত’ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার বিকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এই মানববন্ধন থেকে আগামী ২৯ আগস্ট একই কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেয়া হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আন্দোলন চলবে বলে জানানো হয়।


রাজশাহীর সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোট এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বক্তারা বলেন, রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে মসজিদ মিশন একাডেমিকে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতারা তাদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। সরকারের বেতন নিয়ে জামায়াত নেতারা এখানে বসেই রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এটা মেনে নেয়া যায় না।

 তারা অভিযোগ করেন, মসজিদ মিশন একাডেমিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা দেয়া হয় না। তাদের সাম্প্রদায়িক করে গড়ে তোলা হয়। এই স্কুলে জঙ্গিবাদকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তাই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রের অধীনে নিয়ে এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষকদের অব্যহতি দেয়ার দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, মসজিদ নামটি ব্যবহার করে জামায়াত নেতারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। এখানে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ দাবি করে তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে অসাম্প্রদায়িক।


প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার ঘোষ। পরিচালনা করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কুমটির মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জল।


বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, সাবেক জেলা কমান্ডার অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সদস্য হাসান খন্দকার. একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মহানগর নির্বাহী সভাপতি ড. সুজিত সরকার, মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ, মহিলা পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠির সভাপতি সরৈাক কুমার, গণমৈত্রী সংগঠনের সদস্য মনিরুদ্দিন পান্না, রাজশাহী খেলাঘরের সভাপতি আফতাব উদ্দিন কাজল, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্য নেকাই কুমার, ছাত্রনেতা তামিম সিরাজ প্রমুখ।


প্রসঙ্গত, মসজিদ মিশন সংস্থা ১৯৭৬ সালে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেয়। পরে তারা রাজশাহীতে একে একে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। অথচ সংস্থার গঠনতন্ত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা ছিল না। আবার নিবন্ধন নেয়ার পর মসজিদ মিশন সংস্থা কোন দিন অডিট করায়নি। কমিটিও অনুমোদন নেয়নি। নিজেদের ইচ্ছেমতোই কমিটি করা গয়। অথচ এই কমিটির গঠন করে দেয়া পরিচালনা পর্ষদই মসজিদ মিশন একাডেমি পরিচালনা করে থাকে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে ধরা পড়েছে যে মসজিদ মিশন একাডেমির প্রায় ১১ কোটি টাকার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, মসজিদ মিশন সংস্থা জামায়াতের একটি সংস্থা। আর মসজিদ মিশন একাডেমিতেও নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।


শুধু তাই নয়, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা গায়েবানা জানাযা পড়েছেন। হামলা করেছেন পুলিশের ওপর। বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এ অবস্থায় মসজিদ মিশন একাডেমিকে ঢেলে সাজানোর দাবি উঠেছে। এ দাবিতে গত ২২ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও মহানগর ইউনিট মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

রাজনীতি/কাজল/বাতেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here