মার্কিন নির্বাচন; প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন চার বাংলাদেশিও

বিশেষ প্রতিবেদকঃ আজকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন পদেও নির্বাচন হচ্ছে। এতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের নিয়ে রাজ্যগুলোর সর্বত্র আলোচনা চলছে। মূলধারার রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকানের টিকিটে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

তাদের নিয়ে গর্বিত বাংলাদেশি কমিউনিটি। তারা হলেন- টেক্সাসের অস্টিন থেকে কংগ্রেসে বাংলাদেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডোনা ইমাম, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর শেখ রহমান চন্দন, নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল বি. খান ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অডিটর জেনারেল প্রার্থী ড. নীনা আহমেদ।

ডোনা ইমাম : হঠাৎ ঝলসে ওঠার মতো ঘটনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডোনা ইমাম। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি টেক্সাসের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩১ এর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

অস্টিনের উইলিয়ামসন কাউন্টি এবং সেনাছাউনি অধ্যুষিত ফোর্ট হুড নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকার ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ৫৯.১৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। এশিয়ানের সংখ্যা মাত্র ৫.২ শতাংশ। হিসপ্যানিক ২৩.৯৩ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গের সংখ্যা ১১.২৪ শতাংশ।

এ আসনে কখনই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। এবার ডোনা রিপাবলিকানদের ধাক্কা দিতে যাচ্ছেন। অভিবাসী সমাজে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি মধ্যম আয়ের শ্বেতাঙ্গদেরও তিনি পাশে পাচ্ছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়েছে।

অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ডোনা ইমাম প্রাথমিক পর্ব অতিক্রম করেছেন। টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী ইলেক্ট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ডোনার নিজস্ব ফার্ম রয়েছে। সেখানে কাজের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন। মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান হিসেবে মিশিগানের একটি আসন থেকে জয়ী হন হেনসেন ক্লার্ক।

আবুল বি খান : নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান আবুল বি খান। যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় মনোনয়ন পেতে ভোটারদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এজন্য মূল নির্বাচনের আগে প্রতিটি দলের প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করেন।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচনে স্টেটের ডিস্ট্রিক্ট রকিংহাম ২০-এ রিপাবলিকান দলের স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী হিসেবে বি খান নির্বাচিত হন। নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট রকিংহাম বরাবরই রিপাবলিকানের দখলে। বাংলাদেশি-আমেরিকান বি খান টানা তিনবার স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হন।

দলীয় মনোনয়নে বিজয়ী হওয়ায় রিপাবলিকান সমর্থিত এলাকা হিসেবে এবারের মূল নির্বাচনেও তিনি জয়ী হবেন বলে ধারণা করছেন সবাই। এবার নির্বাচিত হলে তিনি চারবার অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

আটলান্টিক মহাসাগরের তীরের নিউ হ্যাম্পশায়ারে সিব্রুক সিটির সিলেক্টম্যান (মেয়র) হিসেবেও তিনি ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সিব্রুক শহর সুপরিচিত। আবুল বি খানের জন্ম বাংলাদেশের পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়। ১৯৮১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।

নীনা আহমেদ : মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উত্থানের ক্ষেত্রে ড. নীনা আহমেদ একটি উজ্জ্বল নাম। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ছিলেন। ফিলাডেলফিয়ার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

এবার পেনসিলভানিয়া স্টেট অডিটর জেনারেল পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মনোনয়নের নির্বাচনে (প্রাইমারি) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৮০ হাজার ১৩৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন ড. নীনা।

ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত পেনসিলভানিয়া স্টেটে নীনা আহমেদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার ২৩৩ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন অশ্বেতাঙ্গ মুসলিম নারী প্রাইমারিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

বাংলাদেশের সন্তান নীনা ২১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে রসায়নে পিএইচডি করেন। থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি মেডিকেল ফেলোশিপ করেন।

অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ৩২ বছরেরও অধিক সময় ধরে তিনি কাজ করছেন। এর ফলে তৃণমূলে তার জোরদার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালে রাজ্যের লে. গভর্নর নির্বাচনে এক লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়ে তিনি দ্বিতীয় হন। এ জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে এবার অডিটর জেনারেল পদে তার দলীয় মনোনয়নের পথ সুগম হয়। পেনসিলভানিয়া স্টেটের ফিলাডেলফিয়া সিটি সংলগ্ন মাউন্ট এয়ারিতে স্বামী আহসান নসরতউল্লাহ এবং দুই কন্যা প্রিয়া ও জয়াকে নিয়ে ড. নীনা বসবাস করছেন।

শেখ রহমান চন্দন : জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমান চন্দন। ৯ জুন ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ এ তার বিরুদ্ধে কেউ মাঠে নামেননি। এমনকি এ আসনে রিপাবলিকান পার্টি থেকেও কেউ প্রার্থী হননি।

ফলে আজ অনুষ্ঠেয় মূল নির্বাচনে ভোট প্রার্থনার প্রয়োজন হবে না তার। দিনটি অতিবাহিত হলে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর হিসেবে শপথ নেবেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের শরারচর গ্রামের সন্তান শেখ চন্দন।

১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন চন্দন। বাংলাদেশে তার ছোট ভাই শেখ মুজিবর রহমান ইকবাল কিশোরগঞ্জ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হন।

রাজনীতি/সাদেক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here