লড়াই করেও হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত : ৭ জুন ২০২১

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাঁছাইয়ে গ্রুপ ‘ই’তে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুচের প্রতিনিধিরা। সোমবার (৭ জুন) কাতারের জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে এবং ৯২ মিনিটে সময় ভারতের পক্ষে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রি। এই প্রথম নয় এর আগেও অনেক ম্যাচে বাংলাদেশে জয় কেড়ে নিয়েছেন এই সুনীল ছেত্রি। রাতে ভারতের বিপক্ষে জেমি ডের শিষ্যরা নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা যে নান্দনিক ফুটবল খেলেছিল, সোমবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি জামাল ভূঁইয়ারা। বাংলাদেশের খেলায় আজ সুষ্ঠপরিকল্পনার অভাব ছিল। অগোছালো ফুটবল খেলার কারণে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জেমি ডের শিষ্যদের।

ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে জয়ের দেখা পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর দীর্ঘ ২২ বছর ধরে একটি জয়ের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। এই ম্যাচটির আগে ভারতের বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০১৯ সালে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হারানোর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাঁছাইয়ে এ প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয়শূন্যই রয়ে গেল।

অষ্টম মিনিটে রহমত মিয়ার থ্রোয়ে সতীর্থের হেডের পর বক্সে বল পেয়েও পা ছোঁয়াতে পারেননি তারিক। ফিনল্যান্ড প্রবাসী এই ডিফেন্ডার সেভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। ফলে সুযোগ নষ্ট হয় প্রতি আক্রমণ নির্ভর খেলা বাংলাদেশের।

পঞ্চদশ মিনিটে রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। ব্রেন্ডন ফের্নান্দেসের থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন মানবির কিন্তু জিকো ছুটে এসে পথ আগলে দাঁড়ালে ভারতের এই ফরোয়ার্ড ঠিকঠাক পোস্টে শট রাখতে পারেননি। ক্রস মতো বাড়িয়েছিলেন, বিপদমুক্ত করেন আফগানিস্তান ম্যাচে গোল করা ডিফেন্ডার তপু।

দুই মিনিট পর সতীর্থের নিখুঁত পাস ধরে মানবিরের শট ফেরান জিকো।

৩৪তম মিনিটে মাশুক মিয়া জনিকে তুলে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নামান জেমি। একটু পর কর্নার থেকে চিংলেনসানা সিংয়ের হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ত্রাতা আফগানিস্তান ম্যাচে তপুর গোলের উৎস রাফি।প্রথমার্ধের শেষ দিকে তারিকের হেড অনায়াসে গ্লাভসে নেন গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রহমত ভুল পাসে বল তুলে দেন ছেত্রির পায়ে। তবে ভারত অধিনায়ক পারেননি দলকে গোল এনে দিতে।

প্রথমার্ধে ভারত আক্রমণ একটু কম করলেও দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে তারা আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় নিজেদের কাছে বল রেখে গোল করার সব চেস্টাই চালিয়ে যায় তারা। এতে করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ২০ মিনিট একটু খেই হারিয়ে ফেলেন জামালরা। এরপর নিজেদের একটু গুছিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেস্টা করে।

বাংলাদেশ ম্যাচে বড় সুযোগ পায় ম্যাচের ৭৬ মিনিটে। এ সময় তারা পর পর দুটো কর্ণার কিক পায়। দ্বিতীয় কর্ণার কিক থেকে গোল করার একটি ভালো সুযোগ পেয়েও সেটি হাত ছাড়া হয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

রাজনীতি/এমএন

আপনার মতামত লিখুন :