শিক্ষক থেকে ফার্স্ট লেডি

বাইডেন ও জিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারিতে শপথ নেবেন জো বাইডেন। এর আগে বারাক ওবামার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও সামলেছেন বাইডেন। তিনি যতটা পরিচিত সবার কাছে কিন্তু নতুন ফার্স্ট লেডি এখনও অনেকের কাছেই অতটা পরিচিত নন। নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফার্স্ট লেডিও আসছেন হোয়াইট হাউসে।

শিগগিরই মেলানিয়া ট্রাম্পের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন একজন কলেজশিক্ষক। তাঁর নাম জিল বাইডেন (৬৯)। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একজন পরিপূর্ণ পেশাজীবী নারী হিসেবে তিনিই প্রথম ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন। শিক্ষিকা থেকে সরাসরি ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন জিল বাইডেন।

জো বাইডেন ও জিল বাইডেন দুজন দুই জগতের মানুষ। বাইডেন আগাগোড়া রাজনীতিক। জিল পুরোদস্তুর একজন শিক্ষক। মূলত ইংরেজির একজন অধ্যাপক হিসেবে কলেজে পড়ান তিনি। ফার্স্ট লেডি হওয়ার পরও তিনি নিজের শিক্ষকতা পেশা চালিয়ে যেতে চান। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে সেকেন্ড লেডি হিসেবে প্রায় ৮ বছর ধরে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন জিল। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন শিক্ষকতাও।

শিক্ষকতা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকলেও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামীর প্রচারণাতেও সময় দিয়েছেন। স্বামীর প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর গত আগস্টেই নিজ কলেজের ক্লাসরুম থেকেই ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশনে বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যে বাইডেনের নানা গুণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বামী হলেও তার সঙ্গে বাইডেনের সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুর মতো। তিনি বলেন, দেশের যে যেখানে আছেন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বলতে চাই, আপনারা আপনাদের প্রিয় শিক্ষিকার কথা চিন্তা করুন, যিনি আপনাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছেন। জিল সেই এক ধরনের ফার্স্ট লেডি হতে চায়। ’

প্রায় তিন মাস পরই ফার্স্ট লেডি হয়ে যাবেন জিল বাইডেন। তিনি কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন, মিশেল ওবামা নাকি মেলানিয়া ট্রাম্পের মতো, তা সময় বলে দেবে।

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন জিল বাইডেন। মা–বাবার দেওয়া নাম জিল জ্যাকবস। নিউ জার্সিতে জন্ম নিলেও পাঁচ বোনের মধ্যে সবার বড় জিল পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় বেড়ে ওঠেন। বাইডেনের সঙ্গে বিয়ের আগে আর একজন ফুটবল খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় জিলের। ১৯৭২ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় স্ত্রী-পুত্রদের হারান বাইডেন। এরপর জিলকে জীবনসঙ্গী করেন তিনি।

বাইডেনের সঙ্গে প্রেমের শুরু

নিজেদের প্রথম ডেটের কথা ভোগ ম্যাগাজিনকে বলতে গিয়ে জিল বলেন, ‘তিনি (বাইডেন) আমার চেয়ে নয় বছর বড় ছিলেন। একদিন ফিলাডেলফিয়ার প্রেক্ষাগৃহে আমি ও জো দেখা করি।

জো বাইডেনের প্রেমের প্রস্তাব কিন্তু একেবারেই গ্রহণ করেননি। ৫ বার বলার পরই প্রেমে সাড়া মেলে। আর প্রেমে প্রথম প্রথম সাড়া না দেওয়ার কারণ হিসেবে জিল বলেন, ‘আমি আসলে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে জোর সন্তানেরা আর মা হারা না হয়। ’

নিউইয়র্কে ১৯৭৭ সালে বিয়ে হয় জিল ও জোর। এরপর চার বছর পর ১৯৮১ সালে তাঁদের কন্যা অ্যাসলের জন্ম।

২০১৫ সালের মে মাসে ব্রেন ক্যানসারে মারা যান বাইডেনের ৪৬ বছর বয়সী ছেলে।

শিক্ষকতা জীবন

মিসেস বাইডেন (৬৯) শিক্ষক হিসেবে কয়েক দশক ধরে কাজ করছেন। স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি তিনি দুই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০০৭ সালে ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে জিল বাইডেন একটি কমিউনিটি কলেজে পড়াতেন। কিশোর-কিশোরীদের একটি মনোরোগ হাসপাতালেও শিক্ষকতা করেন তিনি। ডেলাওয়্যার ব্র্যান্ডিউইন উচ্চ স্কুলে তাঁর পুরোনো শ্রেণিকক্ষ থেকে এ বছর ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন জিল। এই কলেজেই তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ইংরেজি শিখিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের।

জো বাইডেন ২০০৯–২০১৭ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় জিল বাইডেন নর্দান ভার্জিনিয়া কমিউনিটি কলেজে ইংরেজির অধ্যাপনা করতেন। এ সময় স্তন ক্যানসারের বিষয়ে সচেতনতা নিয়েও কাজ করেন জিল বাইডেন।

২০১২ সালে শিশুদের জন্য বই ‘ডোন্ট ফরগেট’ প্রকাশ করেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

রাজনীতি/কাজল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here