সাভারে পাওনা টাকা পরিশোধে যুবককে চাপ অতঃপর আত্মহত্যা

সাভারে পাওনা টাকা পরিশোধে যুবককে চাপ অতঃপর আত্মহত্যা ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার: সাভারে পাওনা ১৩ হাজার টাকার জন্য আটকে রেখে চাপ প্রয়োগ করায় এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পাওনাদার মো. ছলিমকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকা থেকে ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত মাজহারুল ইসলাম (২২) তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ঋষিপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সে স্থানীয় আলেয়া গার্মেন্টের শ্রমিক। তার গ্রামের বাড়ি ঠাঁকুরগাও জেলার মহিডাঙ্গী থানার মহসিন আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের বোন হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় ছলিমের মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়া থেকে গার্মেন্টে চাকরি করতো। এসময় কয়েক মাসের মেসে খাওয়ার ১৩ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই বাসা ছেড়ে চলে যায় তার বোন। এরপর আজ দুপুরে মাজহার গার্মেন্টে গেলে ছলিম তাকে হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। এসময় তাকে টাকা পরিশোধ করার শর্তে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে কক্ষের দরজা ভিতর থেকে আটক দেয় ওই যুবক। এসময় কক্ষের ভিতরে ব্যবহৃত অ্যাঙ্গেলের সাথে দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেন মাজহার। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। দুপুরে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে মাজহারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। বিকেলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন সিকদার জানান, নিহত মাজহারুলের বোনের কাছে মাসিক খাবারের ১৩ হাজার বকেয়া টাকা পেত ছলিম। ঋণের এই টাকার জন্যই ছলিম আজ মাজহারকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখেছিল।  কিন্তু মাজহার অপমান সইতে না পেরে কক্ষের দরজা ভিতর থেকে আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। 

তিনি আরো জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠনো হয়েছে। আটক করা হয়েছে ছলিমকে। নিহতের পরিবার যদি চায় তাহলে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হবে।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here