সিলেটকে সিঙ্গাপুরের মত গড়ে তোলা সম্ভব: ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০২০
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র সচিব, কূটনীতিবিদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অফ সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র সচিব, কূটনীতিবিদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অফ সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী দৈনিক রাজনীতির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর আলোচনার চুম্বক অংশ পাঠকদের সামনে তুলা ধরা হলঃ তিনি বলেন, আমি বিশ্বের অনেক দেশে কাজ করেছি, বাংলাদেশের মত এত সম্ভাবনাময় দেশ খুবই কম আছে। এদেশের মানুষকে সঠিকভাবে গাইড করতে পারলে জনসংখ্যাকে সত্যিকার অর্থেই জনসম্পদে রুপান্তর সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে জনগণকে আগে সোনার মানুষ বানাতে হবে তাহলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে পারব।

আমি বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকেই দেখেছি, তিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিক, ঘুষ দূর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন খুবই সোচ্চার। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বর্তমান আমলের রাজনীতিবিদদের কাছে অনুপস্থিত। ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অবদান চির স্বরনীয় কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার কাজ করা চলবেনা। বর্তমানে দেশে ট্রানজিট নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন।

আমি সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে থাকলে আমি এই বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন প্লান করতাম। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ঘিরে ভারতের সিমান্ত লাগোয়া এলাকায় কারখানা নির্মাণ করতাম যেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য ভারতের ওই অঞ্চলগুলোতে সহজে ও কমদামে সরবরাহ করা যাবে পাশাপাশি বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রয়োজনে ভারতের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কারখানাগুলো করা যেতে পারে। সর্বোপরি উভয় দেশ যেভাবে লাভবান হয় সে বিষয়টিই আমি করতাম।

দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা রয়েছে কি না? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার লক্ষে সিঙ্গাপুরের আয়েশি জীবনযাত্রা ফেলে দেশে ঘন ঘন আসতেছি। বিগত তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করেছি।

আমার জন্মস্থান সিলেটের রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ নির্মাণেও আমি কাজ করেছি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য কয়েকশত কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছিলাম। পর্যটন এলাকা সিলেটের এতো সম্ভাবনা থাকার পরও সেখানে কাংখিত উন্নয়ন হয়নি। সবাই মিলে একযোগে কাজ করলে সিলেটকে অত্যধুনিক নিজ শহরে রুপান্তর করা সম্ভব। জন্মভূমি সিলেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই, আমি সুযোগ পেলে সিলেটকে সিঙ্গাপুরের মত আধুনিক, ডিজিটাল শহর গড়ে তুলব।

রাজনীতি/জাকারিয়া

আপনার মতামত লিখুন :