সিলেটের এমসি কলেজ খেলার মাঠে গরুর হাট নিয়ে অপরাজনীতি


বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত কয়েক দিন থেকে সিলেট এমসি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট ইজারা নিয়ে যে গন্ডগোল শুরু হয়েছে তা নিয়ে সিলেটের মানুষ হতবাক হয়েছেন। উক্ত হাট নিয়ে রীতিমত অপ-রাজনীতি শুরু হয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন এমসি কলেজের খেলার মাঠে গরুর হাট ইজারা দেয়ার জন্য টেন্ডার আহবান করলে আওয়ামী লীগের টিলাগড় গ্রুপের দুই পক্ষ এবং তেলিহাওর গ্রুপের জুনিয়র কয়েক নেতা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন। তবে টেন্ডার এর আগে তেলিহাওর গ্রুপের এক সিনিয়র নেতা মিলে-মিশে গরুর হাট করার প্রস্তাব দিলে টিলাগড় গ্রুপের নেতারা বিষয়টি আমলে নেন নি। টিলাগড় গ্রুপের ধারণা ছিল তারা দীর্ঘদিন বিনা টেন্ডারে বাজার করে আসছেন এবং তাদের এলাকায় অন্য কেউ বাজার করার সাহস পাবে না কিন্তু যখন তাদের সেই ধারনা ভুল প্রমান করে তেলিহাওর গ্রুপ টেন্ডারে অংশগ্রহণ করল এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হল, তখন অপর গ্রুপ (টিলাগড় গ্রুপ) অন্য কোন উপায় না পেয়ে তারা হঠাৎ করে কলেজ প্রেমিক হয়ে উঠলেন।

তারা পর্দার আড়ালে গিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দিলেন, প্রথমে মানব-বন্ধন করলেন, সড়ক অবরোধ সহ বিক্ষোভ মিছিল করলেন, মিছিল-মানব বন্ধনে যাদের অংশগ্রহণ ছিল তাদের মধ্যে অন্য কলেজের ছাত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরও দেখা গেছে। এমসি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণ সংখ্যায় খুবই নগন্য ছিল।

অনেক আন্দোলনকারীরা ঠিকই উক্ত হাট ইজারা পাওয়ার জন্য টেন্ডারেও অংশগ্রহণ করলেছিলেন, তারা এমসি কলেজ মাঠে বাশ বাধলেন যা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় নিউজ পোর্টালে এসেছে। গত ২/৩ বছর থেকে টিলাগড় গ্রুপের দুই পক্ষই সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে জোর করে এমসি কলেজের শহীদদের বেদীর পাশেই এমসি কলেজের মূল গেইটে, সিলেট সরকারি কলেজের মূল গেইটে এবং মহাসড়কের রাস্তার দু পাশে গরু-ছাগলের হাটের ব্যবসা করে আসলেন। তখন এমসি কলেজের সম্মানহানি হল না? আওয়ামী লীগের টিলাগড় গ্রুপের উভয় পক্ষের কাছে সচেতন সিলেটবাসীর প্রশ্ন, আপনারা যখন সরকারের রাজস্ব না দিয়েই গরুর হাট বসান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন, টেন্ডার নিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার উপর হাত তুলতেও দ্বিধাবোধ করেন না, তখন কিন্তু আপনারা ঐক্যবদ্ধ। গ্রুপিং রাজনীতির জন্য যখন মুজিব আদর্শের সৈনিকদের হত্যা করলেন তখন কোথায় থাকে আপনাদের আদর্শ আর ঐক্যবদ্ধতা।


করোনা মহামারির জন্য সরকার খোলা জায়গায় গরুর হাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানুষ যাতে সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল কিনতে পারে কিন্তু তারা এককভাবে ইজারা না পেয়ে কূটবুদ্ধি প্রয়োগ করলেন। খেলার মাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আন্দোলন করে নিজদের স্বার্থ হাসিল করার অপচেষ্টাই করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে প্রবাসী, এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে আফসোস নিয়ে বলেন, যখন এমসি কলেজের হোস্টেল জ্বালিয়ে আনন্দ মিছিল করল, শহীদ বেদীর পাশে গরু-ছাগলের হাট বসায়, কলেজের টেন্ডার নিয়ে, ইঞ্জিনিয়ার এবং শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরন করে, তখন কোথায় থাকে তাদের দেশপ্রেম আর কলেজ প্রেম?


এই খেলার মাঠের অনেক জায়গা বেহাত হয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে তারা নিরব কেন? তিনি আরও বলেন, আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ঈদ, বর্তমানে দেশের মানুষ দুঃখ- কষ্ট, আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা নিয়ে দিনাতিপাত করতেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। সরকার করোনা ভাইরাস এর জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি গরু-ছাগলের হাট- বাজারের অনুমতি দিয়েছে সেহেতু মানুষকে শান্তিতে কোরবানির পশু ক্রয় করার ব্যাবস্থা করে দেওয়ার জন্য উভয় গ্রুপকে অনুরোধ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, এমসি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, বিভাগ আন্দোলন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের যে কোন দূর্যোগে এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অবদান ছিল অগ্রগণ্য। গরুর হাট নিয়ে রাজনীতি করা এই কলেজের ছাত্রদের জন্য মানহানিকর।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here