সোনাগাজীতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপেও থামছেনা ভূমি দস্যুদের তান্ডব!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেও ভূমি দস্যুদের তান্ডবলীলা থামানো যাচ্ছেনা। কোটি কোটি টাকার মিশন নিয়ে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি জবর দখলে ভূমি দস্যু চক্রটি যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এক দিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক অন্য দিকে ভূমি দস্যুদের আতঙ্কে দিন কাটছে সোনাগাজীর ভূমি মালিক ও ভূমি কর্মকর্তাদের।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, মামলা, মালামাল জব্দ সহ সর্বোপুরি ১৪৪ধারা জারি করেও বন্ধ করা যাচ্ছেনা ভূমি দস্যুদের তান্ডব লীলা। উপজেলার চরখোয়াজের লামছি, থাক খোয়াজের লামছি ও মুহুরী নদীর তীরে জেগে ওঠা কলমির চরে চলছে ভূমি দস্যুদের জমি জবর দখলের মহোৎসব। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি রজস্যজনক কারণে প্রকৃত ভূমি দস্যু ও জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিতে পারায় ভূমি দস্যু চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফেনীর সোনাগাজী ও মীরসরাই উপজেলার একটি শক্তিশালী ভূমি দস্যু সিন্ডিকেট এই জবর দখলে মত্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে লকডাউনের সুযোগে স্কেভেটর দিয়ে তিনটি মৌজায় দিনে রাতে পালা করে হাজার হাজার একর জমির শ্রেনির পরিবর্তন করে মাটি বিক্রি ও পুকুর খনন করে দখল করে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রকৃত ভূমি দস্যুদের গ্রেফতার বা আইনের আওতায় আনতে না পারলেও কয়েক জন শ্রমিক কে পৃথক অভিযানে আটক করে কারাদন্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। স্কেভেটর ও ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একটি স্কেভেটরে অগ্নিসংযোগ, একাধিক স্কেভেটর ভাঙচুর ও বিকল করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। উপায়ন্ত না দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল পতাকা দিয়ে ১৪৪ধারা জারি করেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। পালা করে রাতের আঁধারে মাটি বিক্রি ও পুকুর খনন করে বেপরোয়া জবর দখল চালাচ্ছে তারা। ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেই ভূমি দস্যুরা জবর দখলকৃত পুকুরে মাছের পোনা বা মাছ ছেড়ে মাছও চাষ শুরু করেছে। 


১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় জবর দখলকৃত পুকুরে মাছের পোনা বা মাছ ছেড়ে চাষ করায় জনমনে নানা প্রশ্ন আর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি দস্যুদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। ভূমি দস্যু চক্রটির কাছে যেন ভূমি কর্মকর্তরাও অসহায় হয়ে পড়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত থাক খোয়াজের লামছি, চরখোন্দকার ও চরখোয়াজের লামছি মৌজার হাজার হাজার একর সরকারি ও নিরিহ কৃষকদের জমির শ্রেনি পরিবর্তন করে মাটি বিক্রি ও পুকুর খনন করে জমি জবর দখল অব্যাহত রেখেছে ভূমি দস্যু চক্রটি। ভূমি দস্যদের বেপরোয়া দখলে যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে খোদ উপজেলা প্রশাসন ও নিরিহ কৃষকরা। কিছুতেই রক্ষা করা যাচ্ছেনা সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার জমি।

এসব ভূমি দস্যুতায় নাম উঠে এসেছে মীরসরাই উপজেলার নিজাম জমিদার, জসিম উদ্দিন বোল্টা, মাছ কাদের, ইকবাল হোসেন, নূরনবী মিস্টার, ফজলু, হুমায়ূন কবির, সেলিম সহ আরো অনেকে।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here