স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী, টুকরো ফেলা হয় বিভিন্ন স্থানে

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত : ৩১ মে ২০২১

রাজধানীর মহাখালী থেকে উদ্ধার হওয়া হাত-পা কাটা মুণ্ডুহীন লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম ময়না মিয়া (৩৮)। পেশায় তিনি সিএনজি চালক। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে নিহত এই ব্যক্তির খণ্ডিত হাত-পা ও মাথা। আটক করা হয়েছে ঘাতক এক নারীকে। তিনি নিহতের প্রথম স্ত্রী। তার নাম শিল্পী। তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার (৩১ মে) পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী শিল্পীর পরিকল্পনা ও সহায়তায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটে। খণ্ডিত দেহ ফেলে যাওয়া স্থানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজের সূত্র ধরে মিলেছে হত্যার ক্লু। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করা গেলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, রবিবার দিবাগত রাতে মহাখালী আমতলী সড়ক থেকে ময়না মিয়ার মাথা, হাত, পা ছাড়া গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। পরে একইদিন রাতে মহাখালীর আমতলি এলাকা থেকে কাটা দুই হাত ও পা উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ সোমবার বিকেলে মহাখালীর ওয়ারলেস এলাকার টিএনটি মাঠ সংলগ্ন ঝিল থেকে ময়না মিয়ার দেহ বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। সর্বমোট ৬ অংশে ভাগ ছিল ময়না মিয়ার পুরো শরীর। জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে একটি অটোরিকশা থেকে ড্রামটি সেখানে ফেলে যায় দুই দুস্কৃতিকারী। ভেতরে খণ্ডিত দেহটি বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ছিল।

পুলিশের উর্ধ্বতন একটি সূত্রটি জানায়, ময়না মিয়ার গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকায়। দুটি বিয়ে করেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রী ঘাতক শিল্পীকে নিয়ে বনানীর কড়াইল বস্তির একটি রুমে ভাড়া থাকতেন তিনি। আর দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন কিশোরগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে থাকেন। ময়না মিয়া মাঝেমধ্যেই তার প্রথম স্ত্রী শিল্পীকে অত্যাচার করতেন। যেটি নিয়ে শিল্পীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছুতেই অত্যাচার না কমায় স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে মোতাবেক লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসা হয়।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে মহাখালী কাঁচা বাজারের কাছে মসজিদ গলিতে একটি ড্রাম পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে ড্রামটি থেকে দুই হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ওই রাতেই মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের এনা কাউন্টার সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় নিহতের চার হাত-পা। কিন্তু ভোররাত পর্যন্ত সন্ধান করেও মাথার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না। সন্দেহভাজন এক আসামিকে আটকের পর সোমবার বিকেলে মস্তকেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আশিক হাসান বলেন, মৃতদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে তার সঙ্গে জাতীয় পরিচপত্রের তথ্য ভাণ্ডারের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, বিচ্ছিন্নভাবে উদ্ধার হওয়া হাত-পা ও মস্তক ওই দেহেরই অংশ। তবে ডিএনএ পরীক্ষা করলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আশিক হাসান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তবে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে যে ময়না মিয়ার তথ্য পুলিশ পেয়েছে, তার দুই স্ত্রী বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

রাজনীতি/এসএল

আপনার মতামত লিখুন :