হুইলচেয়ারে বসেই মমতার হ্যাট্রিক!

রাজনীতি প্রতিবেদক প্রকাশিত : ৩ মে ২০২১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, খেলা হবে। তা হয়ে উঠে নির্বাচনী স্লোগান। এমনকি মঞ্চেও যান তিনি প্লাস্টিকের ফুটবল হাতে। এ শুধু চমক দেখানোর বিষয় ছিলো না। সত্যিই ভাঙা পায়ে দারুণ রাজনৈতিক ফুটবল খেলাই দেখালেন তিনি। যে খেলার জয় গেরুয়া দলের হৃদয় ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। মমতা ম্যাজিকে অবশেষে কুপোকাত হয়ে গেলো ভারতীয় জনতা পার্টি -বিজেপি। শুধু কুপোকাত নয়, বিশাল ব্যবধানেই ধরাশায়ী হলো দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই গেরুয়া দল। জোড়া ঘাসফুলের প্রতীকে লড়াই করা তৃণমূল প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙা পায়ে খেলেই হ্যাট্রিক জয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন বাংলায় তিনি এখনও অপ্রতিরোধ্য। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসনের। তবে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তৃণমূল পাচ্ছে ২০৮ থেকে ২১৫ আসন। বিজেপি পাচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ আসন। বাম-কংগ্রেস জোটের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। তারা কোনো আসনই পায়নি।

অন্যদিকে মোদি এবার জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ঢুঁড়ে বেড়িয়েছেন। দিল্লী থেকে বারবার উড়ে এসেছেন এখানে। এর আগে সারাজীবনেও তিনি এতোবার এ রাজ্যে আসেননি। এমনকি গত মার্চে বাংলাদেশ সফরকেও কাজে লাগিয়েছেন নির্বাচনে ভোটারের মন জয়ে। ঢাকা থেকে ছুটে গেছেন ফরিদপুরে। মতোয়া গোষ্ঠীর প্রধানের বাড়ি পরিদর্শনও করেন তিনি। এই মতোয়ারা পশ্চিমবঙ্গে জয় পরাজয়ে চাবিকাঠির কাজ করবে বলে ভেবেছিলেন মোদি। এখানেই শেষ নয়, বারবার মমতাকে হাস্যকর প্রমাণ করতে নানা কৌশল করেছেন, টিপ্পনিও কেটেছেন অনেক। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। অন্যদিকে ট্রাজিক কৌতুক এবার মমতাকেও যেনো ছাড় দেয়নি। দল বিপুল জয় পেলেও নিজের একমাত্র আসন নন্দিগ্রাম থেকে নিজেরই এক সময়ের দলীয় শিষ্য, তারই ঘনিষ্ট শুভেন্দুর কাছে হেরে গেছেন।

এরই মধ্যে ফল মেনে নিয়ে বিজয়ী দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে মমতা তার দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদেরকে এই বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে এই করোনা পরিস্থিতিতে বিজয় মিছিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন দলের সবাইকে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১৯৮৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছিল। তৃণমূলের এবারের ভোটের হার ওই নির্বাচনকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে বিশ্লেষকদের।

রাজনীতি/তারেক

আপনার মতামত লিখুন :