ইসরায়েলে কর্মরত প্রত্যেক থাই নারীই যৌন হেনস্তার শিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, রাত ০৮:১৫


ইসরায়েলে বিদেশি শ্রমিক হিসেবে কর্মরত প্রত্যেক থাই নারী যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা একটি বিশেষ কমিটি এ নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

নেসেটের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইসরায়েলের কৃষি খাতে যেসব বিদেশি (নারী) শ্রমিক কাজ করেন, তাদের প্রত্যেককেই যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে মারাত্মক যৌন হেনস্তার (ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন) চিত্র ধরা পড়েছে। যেসব ইসরায়েলি কর্মকর্তা এ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের রাষ্ট্রব্যবস্থা এসব নারীকে পরিত্যাগ করেছে, তাই তাদের এমন অবস্থা।

অভিবাসন বিশেষেজ্ঞ ড. ইয়াহেল কুরল্যান্ডার ও ড. শাহর শোহাম প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১০০ শতাংশ অর্থাৎ প্রত্যেক বিদেশি নারী শ্রমিক যৌন হেনস্তার শিকার। ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় ৬৫৪ জন থাই নারীকে যৌন হেনস্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারা সবাই বলেছেন যে তারা ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নিপীড়নের শিকার।

ইসরায়েলে ২৫ হাজারের বেশি থাই শ্রমিক কাজ করেন। ইসরায়েলের কৃষি খাত ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক সরবরাহ করে থাইল্যান্ড। এ কৃষি খাতে কাজ করা শ্রমিকরাই বেশি যৌন হেনস্তার শিকার।

জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে ড. ইয়াহেল কুরল্যান্ডার বলেন, ইসরায়েলের রাষ্ট্রব্যবস্থা এসব নারীকে পরিত্যাগ করেছে, তাদের জন্য কোনো সুবিচার নিশ্চিত করেনি। এক নারী এ বিষয়ে অভিযোগ করতে চেয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিযোগ করার কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া নেই। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ইসরায়েলি সরকারের কোনো পরিসংখ্যান বা প্রতিবেদনে এসব অপরাধের বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই। এ কারণে এসব অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর।

এমএসি/আরএইচ

Link copied