কৃষিকাজের জন্য চালক ছাড়াই চলবে এ ট্রাক্টর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

শনিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২২, রাত ০৮:৫১


ছবি সংগৃহীত

যে কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলে আমাদের পেটে অন্ন আসে, যুগে যুগে সে কৃষকই থেকে যান অবহেলার চরম সীমায়। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ওপর ভিত্তি করে আমাদের শিল্প কারখানার চাকা ঘোরে। অথচ সে কৃষকই বঞ্চিত হন উন্নয়নের সকল সুবাতাস থেকে।

এবার কৃষকদের প্রতি প্রযুক্তির নতুন এক চমক এসে হাজির হয়েছে। এখন কৃষক বসে বসেই কৃষি কাজ করতে পারবেন। তাকে আর রোদ-বৃষ্টিতে পুড়ে মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে না। হাতে একটি স্মার্টফোন থাকলে ক্ষেতের আলে বসেই কৃষিকাজ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে তাকে আর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কৃষিকাজের জন্য লোকও খুঁজতে হবে না।

অবশ্য বিদেশে কৃষিখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। আমেরিকায় প্রায় ২০ বছর ধরে কৃষকরা জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সে ধারাবাহিকতায় দেশটির কৃষিকাজ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রের জায়ান্ট কোম্পানি জন ডিয়ার চালকবিহীন ৮আর ট্রাক্টর উন্মুক্ত করেছে। এটি একজন কৃষক ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময় স্মার্টফোন দিয়েই চালাতে পারবে।

দ্য ডেইলি মেইলে প্রকাশ, বুধবার (৫ জানুয়ারি) লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজুমার ইলেকট্রনিক শো-এর প্রথম দিনে জন ডিয়ার কোম্পানি তাদের সর্বশেষ সংযোজিত ৮আর ট্রাক্টরের প্রদর্শনী করে।

ট্রাক্টরটির উপযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকার বাছাইকৃত কৃষকরা ২০১৯ সাল থেকেই সেটি ব্যবহার করে ফলাফল পেয়েছেন। বিশেষ করে কোম্পানিটি করোনার সময় যখন লোকবল পাচ্ছিল না, তখন এ ট্রাক্টর প্রযুক্তিটি তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছে।

নতুন এ ট্রাক্টরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবলিত ৬টি ক্যামেরা রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাক্টরটি চলার পথে সামনে কোনো প্রাণী অথবা বস্তু পড়লে তা শনাক্ত করে সে জায়গায় চলা বন্ধ করে দিতে পারবে।

চালকবিহীন ট্রাক্টরটি মাঠে চলতে শুরু করার পর কৃষক এটিকে খুব সহজভাবে চাইলেই ডানদিকে ঘোরাতে পারবে। এজন্য তাকে ট্রাক্টরটির ভেতর থাকতে হবে না। তবে এ জন্য তাকে অবশ্যই ট্রাক্টরটির মাঠে চলার পথ ঠিক করার জন্য একটি প্রোগ্রাম সেট করে দিতে হবে।
এ প্রযুক্তির মাধ্যমে চালকবিহীন ট্রাক্টরটি মাঠে যেতে পারবে এবং সোজাসুজিভাবে বীজও বপন করতে সক্ষম হবে। তারপর এটি পেছনে ফিরে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরবর্তী লাইনে কাজ করতে পারবে।

কোম্পানিটি আশা করছে চালকবিহীন ট্রাক্টর কর্মী খুঁজতে খুঁজতে হয়রান কৃষকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জন ডিয়ার কোম্পানি নিজেই এক দশক ধরেই কর্মী সংকটে ভুগছে। কারণ স্থানীয়রা বিশেষ করে তরুণরা গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। যে কারণে বর্তমানে কোম্পানিটির অধীনে কাজ করা কৃষকদের গড় বয়স ৫৫ এরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরই ট্রাক্টরটির প্রথম সংস্করণ পাওয়া যাবে। কোম্পানিটি জানায়, পরবর্তীতে এতে কৃষি সংক্রান্ত আরও কিছু সুবিধা যোগ করা হবে।
কোম্পানিটি এ বছর গ্রাহকদের ২০টি ট্রাক্টর সরবরাহ করবে। তবে তারা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারে নি যে ট্রাক্টরটি তারা সরাসরি বিক্রি, লিজ অথবা ভাড়া দিবে।

যদিও কোম্পানিটি ট্রাক্টরের দাম ঘোষণা করেনি। তবে কোম্পানির কিছু প্রতিনিধির মতে ট্রাক্টরটির মূল্য ৫০ হাজার ডলার নির্ধারিত হতে পারে।


যুক্তরাজ্যের জাতীয় কৃষক ইউনিয়ন এ উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়েছে।

জন ডিয়ার ট্রাক্টরের চালকবিহীন ট্রাক্টরের পেছনে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছে। মাঠে ট্রাক্টরটির কার্যকারিতা যাচাই করার সময় এটির সিস্টেমকে আরও উন্নত করার জন্য গত তিন বছরের বেশি সময়ে ৫০ মিলিয়ন ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে ব্যারেট হিল নামে আমেরিকার ইলিনয়েসের ৩৬ বছর বয়সী একজন কৃষক নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বিস্মিত হননি। এটি তার পারিবারিক কৃষি ফার্মের জন্য উপযুক্ত কী না সেটি নিয়ে তিনি নিশ্চিত না। তিনি এটিকে ব্যয়বহুল বলেও অভিহিত করেন।

সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে প্রযুক্তিটি ব্যয়বহুল হলেও এটি কৃষকদের চলে আসা দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাকে লাঘব করতে সক্ষম হবে। এবার যেন কৃষক সত্যিই নিজের উৎপাদিত ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে প্রাণখুলে হাসতে পারবে। যে হাসিতে থাকবে না কোনো যন্ত্রণার ছাপ আর সীমাহীন কষ্টের রেশ। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এ সময়ে এমন আশা তো করাই যায়।

এমএসি/আরএইচ

Link copied