প্রথমবার মানবদেহে বসানো হল শূকরের কিডনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, রাত ১০:২৮


যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো তারা পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনে সফল হয়েছেন। প্রতিস্থাপনের পর রোগীর শরীরে শূকরের কিডনি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি। খবর রয়টার্সের

মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গবেষণার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী উন্নতি। এই পথেই গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে।

মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন নিউ ইয়র্ক শহরের ‘এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ’ এর গবেষকরা। এ জন্য তারা একটি শূকরের জিন পাল্টে দিয়েছিল, যাতে প্রতিস্থাপন করা হলে মানবদেহ সেটাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান না করে।

যে নারীর দেহে ওই কিডনি লাগানো হয়েছে তিনি আগে থেকেই ‘ব্রেইন ডেড’। লাইফ সাপোর্টে থাকা ওই রোগীর কিডনিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের অনুমতি নিয়েই পরীক্ষামূলকভাবে তার শরীরে কিডনিটি বসানো হয়েছে।

গবেষকরা রোগীর পেটের বাইরে পায়ের উপরের অংশের কাছে কিডনিটি রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত করে দেন এবং তিন দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেন। এ প্রসঙ্গে গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ড. রবার্ট মন্টগোমারি বলেন, প্রতিস্থাপনের পর পরই স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করেছে নতুন প্রতিস্থাপিত কিডনিটি। মানুষের কিডনি বসিয়ে ‘যে পরিমাণ মূত্র নিষ্কাশনের আশা করা যায়’ এক্ষেত্রেও ঠিত ততটাই পাওয়া গেছে।

ড. মন্টগোমারি বলেন, কিডনিগ্রহীতার দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা আস্বাভাবিক ছিল- যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা চিহ্নিত করে।

গত কয়েক দশক ধরে গবেষকরা পশুদেহ থেকে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু মূল সমস্যা ছিল, মানবদেহ যাতে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অঙ্গ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিত করা।

 

এমএসি/আরএইচ

Link copied