সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষেধ

রাজনীতি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, রাত ০৮:০৩


দেশের সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণে আজ থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষেধ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২৩শে জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে নৌবাহিনী, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসময়ে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ট্রলার মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে আগত জেলেদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। ঋণের বোঝা ও পরিবারের খরচ মেটানো শঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেক জেলে।

 

গভীর সমুদ্র থেকে ফেরা এফবি জান্নাত ট্রলারের মাঝি কুদ্দুস মিয়া জানান, সাগরে মাছ ধরে টেনেটুনে সংসার চলতো। অবরোধের কারণে চলে আসতে হলো। কিছু ছেড়া জাল রয়েছে। সেগুলো সেলাই করতে ৮-১০ দিন সময় লাগবে। তারপর বেকার সময় পার করতে হবে।

 

এফবি বন্ধন ট্রলারের মাঝি সরোয়ার জানান, ট্রলারে কাজ করে গত বছর ৮০ হাজার টাকা ঋণি হয়েছি। ওই ঋণ এখনো শোধ করতে পারিনি। ওই ঋণ পরিশোধতো দূরের কথা সংসার চালাবো কী করে সে চিন্তায় আছি।

 

এফবি ভাই-ভাই ট্রলারের মালিক মো. খোকন জানান, ২০ লাখ টাকা দাদন নিয়ে দুটি ট্রলার তৈরি করেছি। দুই বছরেও লাভের মুখ দেখিনি। এর ওপর অবরোধ এসে পড়েছে। এ পেশায় টিকে দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

 

সাত ভাই ফিসের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, আলীপুর-মহিপুরে পটুয়াখালী সবচেয়ে বড় দুটি মৎস্য বন্দর রয়েছে। এখান থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ চালান হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা, বৈরি আবহাওয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সব মিলিয়ে এ পেশা এখন হুমকির মুখে।

 

জেলেদের সংগঠন আশার আলোর সভাপতি নিজাম শেখ জানান, জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোসহ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে গভীর সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলার ২৫ হাজারের অধিক জেলেকে দুই ধাপে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সাগরে কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।

এমএসি/আরএইচ

Link copied