অর্ধেক কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে লাখো মানুষ দূর্ভোগে

সৈয়দ আশফাক তানভীর, কুলাউড়া থেকে: কুলাউড়া উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতাধীন কুলাউড়া-পৃথিমপাশা ও রবিরবাজার-টিলাগাঁও বাজার সড়ক প্রশস্থকরণ ও উন্নয়নকাজের মেয়াদ ধীরগতির কারণে ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। ১৮ মাস মেয়াদের প্রকল্পের মেয়াদ অতিবাহিত হলেও সড়কের কাজ হয়নি অর্ধেক। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লক্ষাধিক লোকজন
রাস্তা চলাচলে পড়েছেন চরম দূর্ভোগে। বর্ষায় কর্দমাক্ত এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি ও ফেলে রাখা খোদাই করা সড়কের কারণে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৬ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ অজুহাতে পরিবহন চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন এই
সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে। সড়কের চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদী মানববন্ধনও করেছিলো। তারপরও কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি।

সওজ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া উপজেলা সদরের নবীন চন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার হয়ে ঢিলেরপার বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং রবিরবাজার থেকে টিলাগাঁও বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক রয়েছে। সড়কগুলো দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙাচোরা রয়েছে। সওজ অধিদপ্তর ওই সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতকরণের উদ্যোগ নেয়। ১৮ মাস মেয়াদে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজটি
বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঢাকার ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ পাওয়ার পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙ্গে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেন। কাজ শুরুর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১৬ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন, রাস্তা প্রশস্থকরণ ও পাকাকরণ কাজ শুরু হয় গত বছরের জানুয়ারী মাসে। দুটি সড়কের কাজ সম্পন্নের কথা ছিল গত ৩০ জুন। দুটি সড়ক দিয়ে উপজেলার রাউৎগাঁও, পৃথিমপাশা, কর্মধা, টিলাগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন উপজেলা সদরসহ মৌলভীবাজার জেলা সদরে চলাচল করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, এ সড়কে অনেক দূর্ভোগ নিয়ে কষ্ট করে লোকজন চলাচল করছেন। ২০ মিনিটের রাস্তা ৪০ মিনিটে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে পার করছেন। সড়ক চলাচলে সড়কের ধুলো ও খানাখন্দের ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা চরম বেকায়দায় পড়তেছেন। উন্নয়ন কাজের অপরিকল্পনার বিড়ম্বনার কারণে পরিবহন সেক্টরের ভাড়া বৃদ্ধি কারণে অতিরিক্ত ভাড়া গুণার পাশাপাশি দ্বিগুণ সময় ব্যয়
হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষের। কুলাউড়া- রবিরবাজার ১০ কিলোমিটার সড়কের সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ছিলো ২০ টাকা। রাস্তা বেহাল দশার অজুহাতে চালকরাও ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে মানুষ দুর্ভোগ ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন দূর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন সড়কে চলাচল কারীরা।


পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান জানান, আমাদের ইউনিয়নসহ আশপাশের ৫ ইউনিয়নের লোকজন এই সড়ক ব্যবহার করেন। কারণ এটি জেলা বা উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক। কাজের ধীরগতির কারণে এই সড়কে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত
পোহাচ্ছেন নানা দূর্ভোগ। সড়কের কাজ দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী ও লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গায়ত্রী চক্রবর্ত্তী জানান, ১০ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানে যেতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা। একবার গেলে আর ফিরে আসতে মন চায় না।


তবুও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে প্রতিদিন যেতে হয়। সড়কের কাজের ধীরগতির বিষয়ে মানুষের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পাদন করে এই দাবি জানাচ্ছি।
কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে কাজে ধীরগতি হয়েছে এটা স্বীকার করছি। কুলাউড়া-পৃথিমপাশা সড়কের তিন কিলোমিটার জায়গা পাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ এছাড়া ‘কুলাউড়া-পৃথিমপাশা ও রবিরবাজার-টিলাগাঁও বাজার সড়কের কাজ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সড়কগুলোর কাজে প্রচুর পাথর লাগে। কিন্তু এলসির মাধ্যমে পাথর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোথায় পাথর পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে সড়কগুলোর অবশিষ্ট অংশে পাথরের স্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি আগামী দুই মাসের সড়কের কাজ সম্পন্ন হবে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন থাকার কারণে সড়কগুলোর কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটার কারনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি। বর্তমানে বর্ষা শুরু হওয়ায় সড়কে বিটুমিনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। কাজের জন্য সবধরণের প্রস্তুুতি রয়েছে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে সরকার এখন চলমান সব কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, দুটি রাস্তার কাজের ধীরগতির বিষয়ে অবগত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি কাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here