ইবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতা মতিনের বিরুদ্ধে নাম জালিয়াতির অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ।

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকনেতা অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নাম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জিয়া পরিষদ থেকে বেরিয়ে ‘সাদা দল’ নামে নতুন সংগঠন খোলা এবং জিয়া পরিষদ থেকে ১৭ শিক্ষক নিয়ে পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। পদত্যগকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাদের নাম পদত্যাগ কারীদের নামের তালিকায় আছেন এ বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। 


জানা গেছে, গত ১১অক্টোবর জিয়া পরিষদ থেকে পদত্যাগের খবর জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেন অধ্যাপক মতিনসহ অন্যান্যরা। এতে একাধিক শিক্ষকের অনুমতি ব্যতিরেকে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে এক শিক্ষক ফেসবুকে পোস্টও করেন। ইবি শিক্ষকদের নিজস্ব ফেসবুক গ্রপ ‘শিক্ষক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’তে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আ.হ.ম আসাদুজ্জামান পদত্যাগপত্রের দুটি কপি সংযুক্ত করে লেখেন  ‘প্রেস রিলিজটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। কাজেই, এই প্রেস রিলিজের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।’


এদিকে এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ২৬ জন শিক্ষক নিয়ে ‘সাদা দল’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান অধ্যাপক মতিন। এতে তিনি নিজেকে আহ্বায়ক এবং ব্যবস্থপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শরফরাজ নওয়াজকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করেন। সেবারও কমিটির একাধিক সদস্য নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কিছু জানেন না অভিযোগ উঠেছিল। গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। অধ্যাপক মতিন নোটিশের জবাব না দিয়ে পদত্যাগ করেন।


সূত্রে জানা গেছে, কারন দর্শানোর নোটিশ প্রেরণের পর তাকে জিয়া পরিষদ থেকে বহিস্কার করা হতে পারে এমন আশংকা থেকে তড়িঘড়ি করে আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মতিন। পদত্যাপপত্রে যে ১৭জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয় তাদের একাধিকজন বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া পদত্যাগকরী শিক্ষকদেও নামের পাশে তাদের কারো স্বাক্ষর অন্তভূক্ত কা হয়নি বলেও জানা গেছে।


বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাইলে ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন- পদত্যাগের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি। আমাদের কাছে কোন অনুলিপি আসেনি। যেটি দেখেছি তাতে স্বাক্ষরও ছিলো না। এছাড়া অনুমতি ছাড়াই পদত্যাগপত্রে একাধিক শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুকে এ নিয়ে কেউ কেউ স্টেটাসও দিয়েছেন। কাউকে অবগত না করে নাম ব্যবহার করা শিক্ষকসুলভ আচরণ নয়, এবং এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।


জিয়া পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী নেতা অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, বর্তমান কমিটির উপর চরম অনাস্থা এনে আমরা পদত্যাগের সিন্ধান্ত নিয়েছি। ভার্চুয়াল মিটিংয়ে যেহেতু আলোচনা; সেখানে স্বাক্ষর নেয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা ‘স্বাক্ষর অস্পষ্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। আই এম নো মোর উইথ জিয়া পরিষদ। যে বিষয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছি, তা অনুলিপি পাঠানোর দাবি রাখে না। জালিয়াতির যে বক্তব্য তারা দিয়েছেন তা মনগড়া, আমি এ শব্দটি ব্যবহার করতে চাইনা। দুয়েকজনের সমস্যা ছিলো তাদের সাথে কথা বলেছি; তারা সাদা দলেই থাকবেন।

রাজনীতি/জীবন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here