একসঙ্গে অবসরে গেলেন রাবির ১৮ অধ্যাপক

বিজ্ঞাপন
2 Shares

রাবি প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যাপনা থেকে একসঙ্গে অবসরে গেলেন ১৮ জন প্রথিতযশা শিক্ষক। গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুদীর্ঘ কর্মজীবন সফলভাবে শেষ করেন তাঁরা। তবে নিয়ম অনুযায়ী আগামী এক বছর পি.আর.এল (পোস্ট রিটায়ারমেন্ট লিভ) সুবিধা পাবেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. শেখ সা’দ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৮ জন অধ্যাপকের পি.আর.এল -এ যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়।

অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা হলেন- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মো. মোজাফফর হোসেন, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (বর্তমানে ফাইন্যান্স) বিভাগের মো. মতিয়ার রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের ড. এ.টি.এম ওবায়দুল্লাহ, মার্কেটিং বিভাগের সনজীব কুমার সাহা, সমাজবিজ্ঞানের ড. মো. ফায়জার রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ড. নাসিমা জামান।

ইংরেজি বিভাগের বেগম শেহনাজ ইয়াসমিন, আরবী বিভাগের ড. মো. আব্দুস সালাম, একই বিভাগের ড. মো. আব্দুল সালাম মিঞা, পদার্থ বিজ্ঞানের ড. মো. গোলাম মর্তুজা, একই বিভাগের ড. লায়লা আর্জুমান্দ বানু, ফার্মেসী বিভাগের ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ড. রকীব আহমেদ, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সুভাষ চন্দ্র শীল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. আনসার উদ্দীন।

এদিকে, পি.আর.এল-এ যাওয়া শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাকালে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন।

ড. মো. মোজাফফর হোসেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেয়দ আমীর আলী হলের আহ্বায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (বর্তমানে ফাইন্যান্স) মো. মতিয়ার রহমান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. এ.টি.এম ওবায়দুল্লাহ লোক প্রশাসন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। একই সাথে ইউএনডিপি’র অধীনে ‘জাতীয় সংসদ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পে দক্ষতার সাথে গবেষণা করেছেন। তাঁর একাধিক নিবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
পি.আর.এল বিষয়ে অবহিতকরণ পত্র

মার্কেটিং বিভাগের সনজীব কুমার সাহা বিভাগের শিক্ষার্থীপ্রিয় একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যানও।

ড. মো. ফায়জার রহমান সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। তবে সমাজবিজ্ঞান ছাড়াও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত একাধিক বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন ড. ফায়জার রহমান।

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন খান নিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ফোরাম শিক্ষক সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির রাজশাহী চেপ্টারের সভাপতি তিনি।

ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ড. রকীব আহমেদ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন কম্পিউটার সেন্টারের প্রশাসক হিসেবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক রকীব আহমেদ।

হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ড. সুভাষ চন্দ্র শীল বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্ট ছিলেন। সবশেষ তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক হিসেবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আনসার উদ্দীন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন।

ড. আনোয়ারুল ইসলাম ফার্মসী বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিজ্ঞান অনুষদের নির্বাচিত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আরবী বিভাগের ড. আব্দুস সালাম বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। একই বিভাগের আরেকজন ড. আব্দুস সালাম মিঞাও বিভাগের চেয়ারম্যনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া অধ্যাপক নাসিমা জামান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক বেগম শেহনাজ ইয়াসমিন ইংরেজি বিভাগে এবং অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে চেয়ারম্যান ছিলেন।

2 Shares
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here