চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেরি ব্র্যানস্ট্যাড তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক ঘোষণায় রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। খবর সিএনএন। 

যদিও এখনো তার পদত্যাগের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বেইজিং ছাড়বেন ব্র্যানস্ট্যাড। 

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানিয়েছে, গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর এক টুইটে ব্র্যানস্ট্যাডের পদত্যাগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ব্র্যানস্ট্যাডকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক টুইটে পম্পেও লেখেন, চীনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমেরিকানদের কাছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেবা পৌঁছে দেয়ায় আমি রাষ্ট্রদূত টেরি ব্র্যানস্ট্যাডকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অবদান রেখেছেন।

তবে কী কারণে রাষ্ট্রদূত চলে যাচ্ছেন বা গুরুত্বপূর্ণ এ দেশটিতে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি পম্পেও। 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তার কাছ থেকে পদত্যাগের কোনো নোটিস পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের বিষয়ে পম্পেওর টুইট সম্পর্কে অবগত আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া প্রদেশের সাবেক গভর্নর টেরি ব্র্যানস্টেড ২০১৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেইজিংয়ে নিযুক্ত হন। এরপর ২০১৭ সালের মে মাস থেকে এ পদে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্র্যানস্ট্যাডকে প্রথম বাছাই করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কিন্তু গত দুই বছরে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন-মার্কিন সম্পর্ক। সম্প্রতি হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আধিপত্য, নভেল করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

এ রাষ্ট্রদূত এমন এক সময় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টেরি দায়িত্ব পালনের সময় প্রায় পুরো সময় ধরেই চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ টানা-পোড়েনের মধ্য দিয়েই গেছে।

গত বছরের জুনে তার ওপর সমন জারি করে বেইজিং। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনকে কেন্দ্র করেই তার ওপর সমন জারি করা হয়েছিল।

কদিন আগে নিরাপত্তা শঙ্কায় চীনের হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত শুক্রবার চীন জানায়, মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর তারাও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here