দুর্গাপুরে আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার পালিবাজার হয়ে তাহেরপুর বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁচামাল ব্যবহারে গাফিলতি, রাস্তার পুরোনো ব্লাক ব্যবহারসহ নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অনিয়ম রয়েছে। শুধু তাই নয় রাস্তার সিলকোট হয়েছে নিম্নমানের এবং দিচ্ছে কম থিকনেস, ব্যবহৃত হয়েছে নিম্নমানের বিটুমিন।


রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য এলাকাবাসী দাবি করেন। রাস্তার কাজ নির্ধারিত সময়ে মধ্যে সম্পন্ন না হলে এ অঞ্চলের সকল স্তরের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হবে। স্থানীয়দের দাবি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের ঠিকাদারের কাজ বলে চলে যান।


সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, দুর্গাপুর পালিবাজার থেকে তাহেরপুর বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণ এবং কার্পেটিংয়ের জন্য দুইটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক বিভাগ। 
২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকার এ কাজ শুরু হয় গত বছরের শেষের দিকে। রাস্তার প্রথম অংশের কাজ তাহেরপুর বাজার থেকে শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। 
ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দুটি প্যাকের মধ্যে ডাবলুপি-২০ প্যাকেজের কাজের ব্যায় ২ কোটি টাকা এবং ডাবলুপি-২১ প্যাকেজের ব্যয় ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। 


এমনকি সরকারের টেকসই মান উন্নয়নে রাস্তার থিকনেস ফিট লেয়ার দুটি স্তরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করার কথা। যেখানে ওয়ার্ক অর্ডারে সরকারি নিয়মে ৮ফিট থিকনেস রয়েছে। সে নিয়মে প্রথমে ৪ফিট থিকনেস দিতে হবে পরে আবার ৪ফিট দিবেন। কিন্তু কাজে থিকনেস লেবেলের দুটি স্তর মানা হচ্ছে না।


ওই আঞ্চলিক রাস্তার মাঝে দেবীপুর গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের দুটি পাড়ার প্রায় দুইশ পরিবারের পয়ঃনিস্কাশনের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার। ওই কালভার্টটি ভেঙে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ওই স্থানে আর কোনো কালভার্ট তৈরি করা হয়নি। এতে ওই স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।


এদিকে, রাস্তার পুরোনো ব্লকগুলো তাদের মিক্সার পয়েন্টে কোনো ধরনের পরিস্কার করা হচ্ছে না। এমনকি মিক্সার পয়েন্টে কাঁচামাল দেখার সরকারি কোনো দায়িত্বরত কর্মকর্তা দেখা যায় না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজের খেয়াল খুশি মত কাজ করে যাচ্ছে।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মনসুর রহমান জানান, এখানে সব নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করে কাজ হচ্ছে না। তবে পুরোন রাস্তার ব্লক ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ব্যবহারে আমাদের নিয়ম আছে। তবে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তা জানতে চাইলে বলেন, আমরা পুরোনো শুধু ব্যবহার করছি না। নতুন পাথর দিতে হচ্ছে। তবে মিক্সার পয়েন্টে ব্লাকগুলো পরিস্কার করতে হবে।


এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) দায়িত্বরত কার্যসহকারী আবু সাইদ বলেন, রাস্তার কাজ চলছে। তবে রাস্তার কাজের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্থানে অনিয়ম হলে আমাদের জানান। আমরা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। রাস্তার মাঝখানে নিম্ন মানের কাজ ও কালভার্ট ভেঙে দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি এমন কাজ হয়ে থাকে আমরা দেখে ব্যবস্থা নেব।


এদিকে, রাস্তার নিম্নমানের কাজ ও কালভার্ট ভেঙে নির্মাণ না করা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও প্রশ্ন তুলেছেন।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজের মান নিয়ে কী বলবো। কালভার্ট ভেঙে ফেলার বিষয়ে বলেন, কাজের সিডিউলে থেকে থাকলে অব্যশই ঠিকাদার করে দিবেন। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।


রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক বলেন, রাস্তায় কোনো কালভার্ট ভেঙে সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। প্রয়োজনে কাজ করতে হবে। আমাদের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রয়েছেন তাকে আমি জানাচ্ছি- বিষয়টি দেখবে।


রাস্তার কাজের মান নিয়ে তিনি বলেন, কোনো কাজ খারাপ করার সুযোগ নেই। যদি করেন তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজনীতি/সাজ্জাদ/বাতেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here