বিমানবন্দর ব্যবহারে ভারতকে নিয়ে ‘আপত্তি’ ওলামা লীগের

আওয়ামী ওলামা লীগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতকে কোনমতেই বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।

দলটির নেতারা বলছেন, সম্প্রতি বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে যারা লন্ডন যেতে চান তাদের দিল্লি গিয়ে ফ্লাইটে উঠতে হয়। সেক্ষেত্রে তারা যদি সিলেট বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের যাত্রী হন তাহলে কষ্ট কম হবে। ভারতকে রোড ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট, মংলা পোর্ট, চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে কোন কিছুতেই বাংলাদেশ লাভবান হয়নি বরং সবকিছুই বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাতস্বরূপ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আবার বিমানবন্দর ট্রানজিট দেয়া হবে মরার ওপর খারার ঘার শামিল। কাজেই সরকারকে এরূপ আত্মঘাতি পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১০ দফা দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামী দলের মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখলেও বঙ্গবন্ধুর যিনি হযরত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননা দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত করলে শাস্তির জন্য ১০ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধি সব আইনেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিন্দু থেকে বিন্দুতম অবমাননা করলে বা মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশ ও প্রচার করলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সুইডেন এবং নরওয়েতে পবিত্র কোরআন শরীফের অনুলিপি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো উচিত।

তারা বলেন, সাংবিধানিকভাবে উল্লিখিত, রাষ্ট্র দ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সরকারকে এ ষড়যন্ত্র চিরকালের জন্য রুখতে হবে। জনগণকেও জনসচেতন হতে হবে। ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাষ্ট্র দ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম বহালে ঐতিহাসিক দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেটা আদালত দ্বারা মীমাংসিত বিষয়। এর বিপক্ষে গিয়ে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত পেশ করা কখনোই গ্রহণীয় নয়। রাষ্ট্র দ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের সিদ্ধান্ত ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান কখনও মেনে নেবে না।

বক্তারা আরও বলেন, ভারতীয় অনলাইন জুয়া ‘শিলং তীর’- এ নিঃস্ব হচ্ছে বাংলাদেশিরা। অবিলম্বের এর বিরুদ্ধে বিশেষ সরকারি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের শিলং ও গৌহাটি এলাকা থেকে চালু হয়েছে ‘শিলং তীর’ নামের জুয়া। এখন খোদ রাজধানীসহ বাংলাদেশের জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব জুয়া খেলায় জড়িয়ে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। লোভে পড়ে খেলা সম্পৃক্ত হলেও অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়া পরিচালনাকারীরা।

বক্তারা বলেন, এখন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে সাহেদ-সাবরিনার মতো প্রতারক। আবজালের মতো দুর্নীতিবাজ, ফরিদপুরের শামীমের মতো অর্থপাচারকারী। এমপি পাপুলের মতো মানব পাচারকারী পাপিয়ার মতো পাপী। বাবা-মাকে হত্যাকারী ও আঘাতকারীর মতো সন্তান, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা কিশোর গ্যাং। পর্নোতে আশক্ত শিশু কিশোর। সবকিছু মিলিয়ে সমাজ এখন ধ্বংসের মুখোমুখি। মুসলমান হিসেবে এসব থেকে রেহাই পেতে এখন দরকার সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ।

তারা বলেন, ভারতের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ শুরু করে মোদী নিজের পতনকেই তরান্বিত করছে। রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন হিন্দুত্ববাদী বিজিপি সরকারের এক ঐতিহাসিক ভুল। একদিন এ ভুলের খেসারত দিতে হবে ভারতকে। বাবরি মসজিদের স্থানে গায়ের জোরে রাম মন্দির স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে কুঠারাঘাত করা হয়েছে।

মানববন্ধনে সমন্বয় করেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী ও সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

রাজনীতি/কাজল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here