মসজিদে বিস্ফোরণ; ঝরল আরও এক প্রাণ, লাশের মিছিল বেড়ে ২৮

মসজিদে বিস্ফোরণ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনায় হান্নান (৫০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ২৮ জনের মৃত্যু হলো।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ সংকর পাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজ চলাকালে শহরের তল্লা বাইতুস সালাম মসজিদে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের অনেকেই দগ্ধ ও আহত ছিলেন। পরে আহতদের শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম মৃত্যু হয় জুয়েল নামের এক শিশুর। মৃতের তালিকায় রয়েছেন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনও। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মারা যান মসজিদের ইমাম।

এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১০টা পর্যন্ত এক শিশুসহ ১০ জনের জানাজা শেষে দাফন করা হয়। চোখের জলে প্রিয়জনকে দাফন করেন স্বজনরা।

ঘটনার দিন হতাহতরা হাসপাতালে ভর্তির পর ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ মুসল্লিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবারই ডিপবার্ন রয়েছে। শতাংশের হিসেবে কোন রোগীর কতটুকু বার্ন হয়েছে তা তাৎক্ষণিক বলা যাচ্ছে না। তবে কেউ শঙ্কামুক্ত নন।

প্রাথমিকভাবে তদন্ত শেষে এসি নয় বরং গ্যাসলাইন থেকেই মসজিদে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি একথা জানান।

এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস একটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি ও জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ দিকে, মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ফতুল্লা অফিসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন- তিতাসের ফতুল্লা অফিসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এস এম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, সাহায্যকারী মো. হানিফ মিয়া এবং প্রো-কর্মী মো. ইসমাইল প্রধান।

অন্যদিকে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাসলাইনের পাইপে আরও লিকেজ খুঁজতে দ্বিতীয় দিনের মতো মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকরা মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। নতুন করে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদের উত্তর ও পূর্বদিকে আরও দুটি গর্ত খনন করে মাটি সরানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here