মাদকদ্রব্য পরিদর্শকের রোষানলে গৃহবধূর ৪০ দিনের কারাবাস

শিরিনা বেগম ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ভৈরব সার্কেলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমানের রোষানলে পড়ে শিরিনা বেগম নামের এক গৃহবধূ ৪০ দিন হাজতবাসে ছিলেন বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর। তিনি ৪০ দিন পর গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন। তিনি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার স্ত্রী। 

তার অভিযোগ, গত কুরবানীর ঈদের দুদিন আগে ৩০ জুলাই মাদকদ্রব্য অফিসের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান দুজন অফিস সহকারীকে নিয়ে শিরিনার বাসায় অভিযান চালায়। তার স্বামী খোকন মিয়া তখন বাড়িতে ছিলেন না। এ সময় মাসুদুর রহমান একজন সোর্সকে দিয়ে এক কেজি গাঁজা কিনতে শিরিনাকে অনুরোধ করেন।

শিরিনা তখন জানায়, তার স্বামী গাঁজা সেবন করলেও গাঁজার ব্যবসা কখনও করেন না। তাই গাঁজা তিনি কেন কিনবেন!

তখন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পরিদর্শক বাসা তল্লাশি করে দুই পোটলা গাঁজা উদ্ধার করেন। শিরিনা তখন জানায়, এই গাঁজা হয়তো তার স্বামী সেবন করার জন্য রেখে থাকতে পারেন, যা তিনি জানেন না। 

একথা বলার পর মাসুদুর রহমান শিরিনার কোলের শিশুসহ (৮ মাস বয়সী) তাকে আটক করে অফিসে নিয়ে যায়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের সাজা প্রদান করলে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়। 

শিরিনা আরও জানান, ঈদের আগে তাকে হাজতে পাঠানোয় ৩ সন্তান ও  স্বামী ছাড়া তাকে হাজতে ঈদ করতে হয়েছে। তার স্বামী রিক্সাভ্যানে করে আচার বিক্রি করে সংসার চালান। একমাত্র সম্বল সেই রিক্সাভ্যানটি বিক্রি তার স্বামী তাকে ৪০দিন পর জেল থেকে জামিনে মুক্ত করে এনেছেন। ৮ মাস বয়সী কোলের শিশুসহ বিনা অপরাধে ৪০ দিন হাজতবাস করানোর দায়ে পরিদর্শক মাসুদুর রহমানের বিচার দাবি করেছেন শিরিনা বেগম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেল অফিসের এই পরিদর্শক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী ভৈরব শহরের শম্ভুপুর এলাকার মাদকসেবী কালা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দুই পোটলা গাঁজাসহ আটক করে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে থানায় একটি মামলা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযানের সময় কালা মিয়ার বাড়ি থেকে তার মেয়ে শান্তা বেগমের বেতনের ১১,৪০০ টাকা ছিনিয়ে আনার অভিযোগে মন্ত্রণালয়সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন শান্তা বেগম। 

এছাড়াও চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকার দ্বীন ইসলাম নামক এক মাদক সেবনকারীকে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে তার স্ত্রীকে আটকের ভয় দেখিয়ে গরু বিক্রির ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে তার স্ত্রী সাহিদা বেগমের অভিযোগ। 

এইসব বিষয়ে পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, শিরিনার বাসায় অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তার সাজা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা কখনও সত্য কথা বলে না, বলে দাবি করে তিনি বলেন, শিরিনার অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগগুলিও তিনি অস্বীকার করেন।

রাজনীতি/কাসেম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here