কৃষকের জন্য রাজুর সোলার ফ্যান আবিষ্কার

সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১, রাত ১১:১৩


জামালপুরের অদম্য রাজুর বিস্ময় আবিষ্কার “কৃষক সোলার ফ্যান”। রাজু আহমেদ পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। বাবা মো, ইলিয়াস ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পড়াশোনায় খুব বেশি ভাল ছিলেন না তাই পঞ্চম শ্রেণীতেই ইতি টেনেছেন রাজু । কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তার খুব ঝোঁক ও নেশা ছিল ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির উপর। বিভিন্ন সময়ে নষ্ট রেডিও, টিভি, চার্জার লাইট মেরামত করে সফল হয়েছেন। দরিদ্র ঘরের সন্তান হওয়ায় একটা সময় নেশাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ছোট একটি মেকানিক্যাল দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তার পরও তিনি দমে যাননি। এবার তিনি আবিষ্কার করেছেন কৃষক সোলার ফ্যান। মাঠের রোদ ও গরম থেকে কৃষককে রক্ষায় রাজুর ‘সোলার ফ্যান’ খুব সহায়ক। রবিবার জামালপুরের শরিফপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় রাজু আহমেদের ‘ কৃষক সোলার ফ্যান’ পরীক্ষামূলকভাবে অনেক কৃষক ব্যবহার করছেন। ফসলের মাঠে রোদ আর গরম কৃষকের প্রতিদিনের কষ্ট। এ কষ্ট অনেকটা দূর করতেই রাজুর এই নতুন আবিষ্কার। নাম দিয়েছেন ‘কৃষক সোলার ফ্যান’। দেখতে অনেকটা কৃষকের মাতুল সদৃশ্য। যন্ত্রটি কৃষকের মাথায় ছায়া ও দুই পাশ থেকে শীতল বাতাস দেবে। ফলে কৃষক ক্লান্তিহীনভাবে মাঠে কাজ করতে পারবেন বলে দাবি রাজুর। যন্ত্রটি তৈরি করতে রাজু ২০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ডিসি ২টি ছোট্ট ফ্যান, ২টি সুইচ, ১টি বেল্ট ও বডি মেকানিক্যাল ব্যবহার করেছেন। যন্ত্রটি কৃষকের মাথায় ছায়া দেবে। অন্যদিকে সামনে থেকে একটি ফ্যান এবং পেছন থেকে একটি ফ্যান বাতাস দেবে। ফলে একজন কৃষক তাঁর পিঠে লাগিয়ে সারা দিন ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারবেন। এই যন্ত্রটি তৈরি করতে তাঁর প্রায় এক বছর সময় লেগেছে । রাজু আহমেদ বলেন, কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন যন্ত্র তৈরির আগ্রহ তাঁর অনেক আগে থেকেই ছিল। সেই আগ্রহ থেকে নতুন একটি যন্ত্র উদ্ভাবনের চিন্তা আসে তাঁর মাথায়। মাঠে কৃষক ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই নতুন যন্ত্র তৈরির কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন নকশা ও পরিকল্পনা করে যন্ত্রটি প্রস্তুত করেন। এটি বানাতে তাঁর খরচ হয়েছে মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা। রাজু আহমেদ বলেন, কৃষিযন্ত্রপাতি তৈরির প্রতি তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। তিনি ২০১২ সালে ঘাস কাটা, ভুট্টা বপন ও খেতের আবর্জনা পরিষ্কারের একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। একইভাবে মুঠোফোনের মাধ্যমে পাখি তাড়ানোরও একটি যন্ত্র বানিয়ে ছিলেন। পরে তাঁর তৈরি যন্ত্রটি জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা দেখেন এবং তাঁকে উৎসাহিত করেন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি কৃষি যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। রাজুর যন্ত্রটি দেখে জামালপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড, মো. মঞ্জুরুল কাদির বলেন, এটি একটি নতুন ধারণা। তবে যন্ত্রটিতে আরও কিছু কাজ করতে হবে। রাজুকে তাঁরা সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজনীতি/এসএম

এমএসি/আরএইচ

Link copied