ত্বকের বিভিন্ন কঠিন সমস্যায় হলুদ ব্যবহার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১, রাত ০৮:৩০


হলুদ কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। বিভিন্ন কঠিন রোগ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে এই জাদুকরী মশলাটি। শুধু তাই নয়, হলুদ আমাদের ত্বকের জন্যও অনেক উপকারী। ত্বকের বিভিন্ন কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে এই ঘরোয়া উপাদানটি।

মুখের নিষ্প্রাণ বিবর্ণভাব কাটিয়ে সতেজ উজ্জ্বলতা এনে দিতে, মুখের কালো দাগছোপ হালকা করতে, ব্রণ-ফুসকুড়ি নির্মূল করার কাজে, মুখের যেকোনো প্রদাহ কমাতে হলুদের ব্যবহার বহু প্রাচীন। তবে হলুদ ব্যবহারে কিছু সাবধানতাও অবলম্বন করতে হয়। চলুন তবে ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার ও সাবধানতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক- 

ত্বক কোমল উজ্জ্বল রাখে

মুখ খুব নিষ্প্রাণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে? হাতের কাছে রাখুন হলুদ আর ময়দা। দুই টেবিল চামচ ময়দা, এক চা চামচ হলুদ বাটা, এক টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল আর তিন টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ক্রিমের মতো মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখে লাগিয়ে মিনিট ১৫ রাখুন, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণ কমায় 

দুই টেবিল চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা, এক টেবিল চামচ পরিমাণ বেসন অথবা চালের গুঁড়া, দুই টেবিল চামচ টক দই বা দুধ (তেলতেলে ত্বক হলে) অথবা অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল (শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে) আর এক টেবিল চামচ মধু। সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখে সমান করে মেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোওয়ার পর প্রথমে টোনার আর সব শেষে ময়শ্চারাইজার অবশ্যই লাগাবেন।

ত্বকের প্রদাহ কমায়

যাদের ত্বক সেনসিটিভ, একটুতেই মুখে জ্বালা করে, ত্বক লালচে হয়ে যায়। হলুদের প্যাক প্রদাহ কমিয়ে ত্বক শীতল রাখতে পারে। এক চা চামচ পরিমাণ হলুদ বাটার সঙ্গে আধা চা চামচ পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল আর এক চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটা ঘন হবে না, বরং বেশ তরলই থাকবে। মুখে আলতো করে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি লাগালে মুখে সামান্য হলদেটে ভাব আসতে পারে। তা না চাইলে মিশ্রণটিতে কয়েক ফোঁটা অলিভ বা নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন।

চোখের নিচে কালচে দাগ

অনেকের চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে। এই কালো দাগ তুলতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয় হলুদ। এক্ষেত্রে হলুদ বাটার সঙ্গে ২ চামচ টক দই, ১ চামচ চালের গুঁড়া, ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ওই মিশ্রণ হাত, পা, মুখে ভালো করে লাগাতে হবে। ২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানিতে হাত-মুখ ধুয়ে নিলেই কাজ শেষ। পর পর কয়েকদিন এই মিশ্রণ মুখে লাগালে চোখের নিচের কালি কেটে যাবে।

চর্মরোগ সারাতে

খোস-পাঁচড়ার মতো চর্মরোগ সারাতে পরিমাণ মতো হলুদ বাটার সঙ্গে কচি নিমপাতা ভালো করে বেটে নিয়ে গায়ে লাগাতে হবে। পর পর কয়েকদিন লাগালে নিশ্চিতভাবে চর্মরোগের উপশম হবে। তাছাড়া যারা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন তারা সকালে খালি পেটে এক টুকরো হলুদ চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খান। কয়েক সপ্তাহ একটানা এই নিয়ম মেনে চললে অবশ্যই লিভারের সমস্যা কমে যাবে।

ত্বকে হলুদ ব্যবহারে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো কী কী- 

কত সময় রাখবেন

ত্বকে হলুদ মিশিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে প্যাক ধুয়ে তুলে ফেলুন। কারণ বেশি সময় ধরে রাখলে ত্বকে হলদে দাগ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মুখ ভালো করে পরিষ্কার না করা

মুখে ফেস প্যাক লাগালেন, বেশ ভালো কথা কিন্তু লাগানোর পর ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার না করার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে আনা হয়। এমনকি বেশি সময় ধরে রাখার ফলে নানা রকম র‍্যাশ বেরোতে পারে।

সমান ভাবে না লাগানো

হলুদের ফেস প্যাক ত্বকে বিশেষ করে মুখে লাগানোর আগে নিশ্চিত হোন সমানভাবে লাগানো হচ্ছে কিনা? কারণ সমান ভাবে না লাগালে ঠিক মতো কাজ না-ও করতে পারে।

প্যাক তুলতে সাবান লাগানো থেকে বিরত থাকুন

মুখে হলুদের প্যাক লাগানোর পর তা পরিষ্কার করতে অনেকেই সাবান ব্যবহার করেন, যা ঠিক নয়। অন্তত ১২ ঘণ্টা সাবান দিয়ে মুখ ধোয়া কোনভাবেই উচিত হবে না। এক্ষেত্রে কেবল পানি ব্যবহার করুন।

এমএসি/আরএইচ

Link copied