সাভার-আশুলিয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৩:৩৩
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আজও উত্তাল ছিল পোশাক শিল্পাঞ্চল।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এছাড়া আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় ও উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন শ্রমিকরা।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুর পদ্মার মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। এ
তে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় ওসি সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ওই এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাভার শান্ত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। সকাল থেকেই আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা।
বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তারা রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক রণক্ষেত্রে রূপ নিলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগে মবিন নামের একজনকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। জানা যায়, এর আগেও তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের হামলায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের তৎপরতায় সাভারের পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের আওতাধীন সমস্ত এলাকা স্বাভাবিক আছে। কোথাও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা নেই। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেয়।
পরে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো ছুটি দিয়ে দেয়। সাভার এলাকায় আল-মুসলিম থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত রাস্তায় তারা একটু পিকেটিং করার চেষ্টা করেছিল, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা দূর করেছি। ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি একযোগে কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।
এমএসি/আরএইচ