বাপেক্সে লুটপাট, ডিজিএম মেহেরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২, বিকাল ০৬:৫৯


বাপেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তা ডিজিএম মেহেরুল হাসানের পৃষ্টপোষকতায় লুটপাট, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা বাপেক্সে থ্রি ডি ও টু ডি সাইসমিক প্রকল্পে পেট্টোবাংলার তদন্তে ৬১০ কোটি টাকার ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পত্র প্রদান করা হয়।


অভিযোগ পত্রে বলা হয়, বাপেক্সের প্রভাবশালী অসাধু কর্মকর্তা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মেহেরুল হাসানসহ কিছু অনুসারী কর্মকর্তারা বাপেক্সের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ করে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের ভূয়া কাগজপত্র ও লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান আর্নিব এন্টারপ্রাইজকে সাথে নিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গোপনে কাজ দিয়ে ভুয়া বিলপত্র তৈরি করে, ভুয়া এলসির মাধ্যমে বৈদেশিক যন্ত্রপাতির ক্রয় দেখিয়ে নষ্ট পুরাতন যন্ত্রপাতি দেশ থেকে ক্রয় করে, তা দেখিয়ে প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎত করছেন। এই চক্র এ পর্যন্ত কয়েক শত কোটি টাকা তাদের পকেটে ভরেছে। ইতিপূর্বে বিষয়টি বাপেক্সে ও পেট্রোবাংলার তদন্ত প্রতিবেদনে কিভাবে লুটপাট করা হয়েছে তা প্রমানিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে বিষটি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।


থ্রি ডি সাইসমিক প্রকল্পে ২৪৭.৭০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে যা কোন কাজে আসেনি। প্রকল্পের ব্যয়ের ৪৫ শতাংশ বৈদেশিক অর্থ। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য (১) সার্ভে (২) সাইসমিক লাইন ডিজাইন (৩) উপাত্ত সংগ্রহ এবং (৪) উপাত্ত প্রক্রিয়াকরন সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি সফটওয়্যার ক্রয়ের জন্য আন্তর্জার্তিক উন্মুক্ত দরপত্র আহবান করা হয়, কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে একাধিক দরপত্র বিক্রি হলেও শুধুমাত্র আর্নিব এন্টারপ্রাইজের লোকাল এজেন্টশীপের অর্ন্তভূক্ত ১টি করে দরপত্র জমা পড়ে।


এখানে একটি করে দরপত্র জমা পড়লেও পুনঃদরপত্র আহবান করা বাঞ্চনীয় থাকলেও সেক্ষেত্রে দরপত্রের স্পেসিফিকেশনে ১টি বিশেষ কোম্পানীকে কাজ দেওয়া হয়েছে সেই ভাবে সব সাজিয়ে দেন ডিজিএম মো. মেহেরুল হাসান গং। যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার ক্রয়ে আর্নিব এন্টারপ্রাইজের লোকাল এজেন্টশীপের অর্ন্তভূক্ত রয়েছে।
পরামর্শক সেবা আর্নিব এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়েছে যোগ সাজসে। সমস্ত কাজ একটি কোম্পানী আর্নিব এন্টারপ্রাইজকে দিয়ে করিয়েছেন ডিজিএম মেহেরুল হাসান। সমস্ত প্রকার দেশী বিদেশী ক্রয় সরবরাহ, শ্রমিক নিয়োগ, যানবাহন ক্রয়, জনবল সরবরাহ করে নামে মাত্র শুধু তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি। বাপেক্স দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন ডিজিএমের নেতৃত্বে আর্নিব এন্টারপ্রাইজ।


কোন কাজ না করে ৬১০ কোটি টাকা ডিজিএম (প্রকল্প পরিচালক) মেহেরুল হাসান ও আর্নিব এন্টারপ্রাইজ একে অন্যের পারস্পারিক সহযোগিতায় অনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্নীতি সংগঠিত করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের রিপোর্ট প্রদান করে, একই সাথে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশও করা হয়। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্টকে পাত্তা না দিয়ে বরং টাকা দিয়ে সকলের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে জানা যায়।


বাপেক্স, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানী লিঃ ও সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানী লিঃ মিলে ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়নি ও তাদের সমন্বয়ে কোন মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সবাইকে নিয়ে যৌথ কমিটি হওয়ার কথা মানা হয়নি বলেও জানা যায়।


এ বিষয়ে জানতে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মেহেরুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযেগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লি. দেয়া ওয়েবসাইটে দেওয়া নাম্বারে ফোন করা হলে নাম্বারটি তার নয় বলে জানা যায়।

এমএসি/আরএইচ

Link copied