যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশে ঢুকতে পারে- শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে রুমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ০৮:৫১


বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে এবং দেশে ফিরতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, সংবিধানে এ অধিকার স্পষ্টভাবে দেওয়া রয়েছে। তবে দেশে ফেরার পর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সরকারই নির্ধারণ করবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন।

এর আগে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ভাষাসৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়। রুমিন ফারহানা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। তার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হলেও ভাষাসৈনিক অলি আহাদের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। দেশের ইতিহাস অনেক সময় রাজনৈতিক বয়ানের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, ইতিহাস অনেক সময় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই লেখা হয়। তা না হলে অলি আহাদ, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরও বিস্তৃতভাবে জানতে পারত।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ঝাড়ু মিছিল ও বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতিতে এসব হয়, এটা নতুন কিছু নয়। রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, মিছিল-মিটিং হবে এবং অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হতে পারে; এগুলোই তো স্বাভাবিক রাজনীতি। মূলত রাজনীতিকদের কথার জবাব সাধারণ মানুষই দেয়, আর আজকের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আশপাশে ৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

এমএসি/আরএইচ

Link copied