জেলেদের জন্য ১ হাজার ৬৫৭ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ০৪:৪৫


ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা সরকারি আদেশে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন—৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত—ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রায় সহায়তা দিতে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এসব চাল বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দের আওতায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও মানিকগঞ্জসহ ইলিশ আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকার জেলে পরিবার রয়েছে।

বরাদ্দের মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের জন্য মোট ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০টি পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০টি পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬টি পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০টি পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফের চাল যাচাই করা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে নির্ধারিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী বিতরণ করতে হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ শেষ করে সংশ্লিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে উপ-বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে ছাড়পত্র দিতে হবে।

চাল বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে ভিজিএফের চাল দেওয়া যাবে না।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময় শুরুর আগেই, অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।

বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণের বিস্তারিত বিবরণী মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

এমএসি/আরএইচ

Link copied