পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ০৫:৪০


২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে নির্ণায়ক অবদান এবং জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারে ভূমিকার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
 
ফ্রান্সিস হালজেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে কণা পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞানের সংযোগস্থলে গবেষণা করছেন। ১৯৭২ সাল থেকে তিনি উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে কাজ করছেন।
 
হালজেন আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির প্রধান গবেষক। তার উদ্যোগে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে বরফের প্রায় এক ঘনকিলোমিটার অংশকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই নিউট্রিনো শনাক্তকারী। আইসকিউবের মাধ্যমে মহাজাগতিক উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
 
নিউট্রিনো হলো বৈদ্যুতিক আধানহীন মৌলিক কণা। এ কণা প্রায় আলোর গতিতে চলতে পারে এবং মহাকাশের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। অন্যান্য কণার তুলনায় নিউট্রিনোর বিশেষত্ব হলো, এটি মহাবিশ্বের বিভিন্ন দূরবর্তী ও শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস সম্পর্কে তথ্য বহন করতে পারে।
 
আইসকিউবের পর্যবেক্ষণ মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। গবেষণায় সক্রিয় ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের আশপাশ থেকে উচ্চশক্তির নিউট্রিনো নির্গমনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ ধরনের গবেষণা মহাজাগতিক রশ্মির উৎস সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করছে।
 
২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। এবার পুরস্কারটি এককভাবে ফ্রান্সিস হালজেন পেয়েছেন।
 
এ নিয়ে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার দ্বিতীয় পর্ব শেষ হলো। এর আগে সোমবার শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল।

এমএসি/আরএইচ

Link copied