আফগানিস্তানে ত্রাণ দিতে একমত জি-২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১, বিকাল ০৬:৪৯


আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এাণ সহায়তা দিতে অঙ্গীকার করেছেন বিশ্বির শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের জোট জি-২০। আফগানিস্তানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধঅরে এাণ দিতে সম্প্রতি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। মঙ্গলবার এরই পরিপ্রেক্ষিতে জি-২০ এর নেতারা ভার্চুয়াল বৈঠকে আফগানিস্তানে ত্রাণের বিষয়ে সম্মত হন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, বৈঠকে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল জানান, আফগানিস্তানে ফের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নেতাদের জানান, স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে আফগানিস্তানে ত্রাণ দেয়া যেতে পারে। ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে সরাসরি ত্রাণ দেয়া যাবে না।

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তান বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত শুধু জরুরি খাদ্য ও ওষুধের জন্য কয়েক লাখ ডলার ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে।

জি-২০ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন লেয়েন আফগানিস্তান ও এর পার্শ্ববর্তী দেশে আফগান শরণার্থীদের জন্য ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ত্রাণ দেয়ার অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া গত মাসে নির্বাচনে অংশ না নেয়া এবং নতুন সরকার গঠন হলে জার্মানির চ্যান্সেলর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মেরকেল আফগানিস্তানকে ৬০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে সম্মত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আফগানিস্তানের আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়লে আমাদের কেউ সেখান থেকে উপকৃত হব না।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা আর্থিক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির চার কোটি মানুষ বিপন্ন বোধ করছে। একটা দেশের এমন পরিস্থিতি নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় না।

মেরকেল জানান, জাতিসংঘের সব সংস্থা যাতে আফগানিস্তানে বাধাহীনভাবে ত্রাণ সহায়তা দিতে পারে, তা তালেবানকে নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া আফগান নারীদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ওপরও জোর দেন জার্মানির নেতা মেরকেল।

ভার্চুয়াল বৈঠকের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি চ্যান্সেলর মেরকেলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে জি-২০ জোটভুক্ত সব দেশের নেতা উপস্থিত ছিলেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকটিতে তাদের প্রতিনিধি পাঠান।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী দ্রাঘি জানান, বৈঠকে অংশ নেয়া সবাই আফগানিস্তানে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।

আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি সংগঠন যেন আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করেন বিশ্বনেতারা।

একই সঙ্গে আফগানিস্তানে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিক ও প্রাণহানির শঙ্কায় থাকা আফগানরা যাতে নিরাপদে দেশটি ছাড়তে পারে, সে বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে।

কাতারের রাজধানী দোহায় সম্প্রতি আফগানিস্তানে ত্রাণ সহায়তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরা নিয়ে তালেবানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরপরই বৈঠকে বসেন জি-২০ এর নেতারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যায়। ক্ষমতা দখলের তিন সপ্তাহ পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান।

অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের অঙ্গীকার করলেও তালেবান তাদের সরকারে কোনো নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে রাখেনি।

এছাড়া ক্ষমতা দখলের পর নারী অধিকার বিভিন্নভাবে খর্ব করা শুরু করে তালেবান। এসব ঘটনা তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ জটিল করে তোলে।

একই সঙ্গে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসায় পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বাইরের দেশে থাকা আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করার পাশাপাশি অর্থসাহায্য দেয়া স্থগিত করে। এতে বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর আফগানিস্তানের অর্থনীতি আরও সংকটের মধ্যে পড়ে।

এমএসি/আরএইচ

Link copied