সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে বরং সম্পর্ক সুন্দর করার চেষ্টা করা : খায়রুন নেসা শাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, রাত ০৮:৪৭


প্রোঅ্যাকটিভ এবং রিঅ্যাকটিভ মাইন্ড এধরনের মানুষের মধ্যে আপনি কোন ধরনের? এদের চিন্তাধারায় কোনটা বেশি কার্যকর? প্রোঅ্যাকটিভ এবং রিঅ্যাকটিভ মাইন্ড সম্পর্কে জানার আগে প্রথমে জেনে আসা যাক রেসপন্স কি এবং রিঅ্যাকশন কি? কোন একটি ঘটনার পর এর প্রতি সাধারণত আমরা দু-ধরনের সাড়া প্রদান করে থাকি। রেসপন্স-রিঅ্যাকশন

রেসপন্স মানে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সময় নেওয়া। আরেকটু ভাবা। আবেগের বশীভুত না হয় প্রকৃত ঘটনা অনুধাবন করা। আর রিএকশন বলতে সাধারণত আবেগের বশীভুত হয় কোন প্রকার চিন্তাভাবনা ছাড়াই হঠাৎ করেই কোন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া।

যাদের প্রোঅ্যাকটিভ মাইন্ড তারা সাধারণত কোন ঘটনার প্রতি রেসপন্স করে থাকেন। আর যাদের রিঅ্যাকটিভ মাইন্ড তারা সাধারণত ঘটনার প্রতি রিঅ্যাকশন করে থাকেন। প্রোএকটিভ মাইন্ড বলতে সাধারণত যারা খুব ধীর স্থির ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। কোন কিছুতে হঠাৎ করে কোন ফাইনাল সিদ্ধান্তে আসেন না। ধৈর্য ধারণ করেন। চিন্তাভাবনা করেন। পরামর্শ গ্রহণ করেন। তারপর একটি সিদ্ধান্তে আসেন।

আর যারা রিঅ্যাকটিভ মাইন্ডের তারা সাধারণত হঠাৎ করেই কোন একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তাদের সাধারণত ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। তারা ধৈর্যধারণ করতে পারেন না। পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ তাদের হয় না। তার আগেই একটি রিঅ্যাকশন করে বসেন।

এই দুই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে অবশ্যই যারা প্রোএকটিভ তারা তাদের জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেন। মানুষের সাথে তাদের ঝামেলা কম হয়। অন্য মানুষও তাদেরকে পছন্দ করেন। তাদেরকে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গণ্য করেন। আজ এমনই একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।যে কিনা প্রোএকটিভ মাইন্ড দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছে একজন সাহসী নারী ও আত্নবিশ্বাসী। যার পক্ষে পড়া লেখা থেকে শুরু করে প্রেম, বিয়ে, বাচ্চা, সবই সম্ভব হয়েছে একসাথে। নাম তার 'খায়রুন নেসা শাহী'। চলুন তার সঙ্গে একটু আলাপ করা যাক!

প্রতিবেদক : আপনার বেড়ে ওঠা কোথায় এবং বর্তমান বাড়ি কোথায় থাকেন?

খায়রুন নেসা শাহী : আমার জন্ম হয়েছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। আমার বাবার প্রথম বাড়িটা ওখানে ছিল। পরবর্তীতে উনি ঐ বাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে উত্তরার উত্তরখানে আবারো বাড়ি তৈরি করেন। তবে আমি আমার বাবার সাথে নয় ধানমন্ডির গ্রীন রোড এ স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকি।

প্রতিবেদক : আপনার পড়াশোনা?

খায়রুন নেসা শাহী : আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবং এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। বর্তমানে আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি পড়ছি।

আচ্ছা আপনি তো সব সময় 'প্রোএকটিভ মাইন্ড' নিয়ে চলাফেরা করেন। আচ্ছা এই 'প্রোএকটিভ মাইন্ড'টা কি সবার কাছে থাকা উচিত নয়কি?

খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন, কারণ এটি জানা খুব জরুরী। কাদের মাইন্ডে থাকা দরকার আর কাদের দরকার না। সত্য বলতে কি যেহেতু আমরা মানুষ মাঝে মাঝে আমরা রিএকটিভ হবোই তবে প্রোএকটিভ একটি অভ্যাস যেটি আমাদের গড়ে তোলা উচিত সুতরাং আমরা চাইলে সবাই প্রোএকটিভ এই মেন্টালিটি নিজেদের মধ্যে আয়ত্ত করতে পারি।

প্রতিবেদক : আচ্ছা বর্তমান সমাজে তো বেশিরভাগ মেয়েরা বিয়ে হলেই পড়াশোনা বাদ দেয়। বা পড়াশোনার দোহাই দিয়ে বাচ্চা নিতে দেরি করে। এটা কতোটুকু যৌক্তিক?

আমাদের সমাজের মেয়েদেরকে অবলা নারী বলা হয় কিন্তু কঠিন শোনা গেলেও এটি সত্য কারণ বাংলাদেশি মেয়েরা এটিকে বিশ্বাস করে এবং বুকে ধারণ করে। তারা সত্যিই নিজেদেরকে দুর্বল মনে করে এজন্য প্রোএকটিভ আচরণের তুলনায় তারা রিএকটিভ আচরণ বেশি করে থাকেন।কারণ আমার বিয়ে হয়ে গেছে এর মানে এই নয় যে নতুন একটি দায়িত্ব নিতে গিয়ে আমি পুরাতন যে দায়িত্বটি ছিল অর্থাৎ আমার পড়াশোনা সেটিকে আমার বাদ দিতে হবে আর আমি বাদ দিছি মানে কিন্তু পরিস্থিতিকে আমি মেনে নিতে পারছি না এবং রিএকটিভ আচরণ করছি।

কিন্তু অপরদিকে আমরা যদি পরিস্থিতিকে বুঝতাম এবং ঝোপ বুঝে কোপ মারা আর্থাৎ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে পারতাম সেটি হত প্রো-অ্যাকটিভ আচরণ।এবং তাতে করে কিন্তু কখনোই আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেত না কিংবা সংসারেও কোন ধরনের সমস্যা হতো না।

আর একটি জটিল বিষয় হচ্ছে আমাদের সমাজের যে নারীরা শত বাধা পেরিয়ে একটু চিন্তা করে নিজের ভবিষ্যৎ কে সুন্দর করার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তারাও একটি ব্যতিক্রম ভাবে রিয়্যাকশন দেয় সেটি হচ্ছে নিজের যে মা হওয়ার অস্তিত্ব সেটাকে নিজের কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রাখে যতদিন না পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণরূপে স্টাবলিশ হয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এই সময়টাতে তাদের যে মা হওয়ার প্রক্রিয়া এটিতে কিন্তু সমস্যা তৈরি হতে থাকে। কারণ তাদের এই স্টাবলিশ হওয়ার এসময়টাতে কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের বয়স বাড়তে থাকে এবং কথাটা কিন্তু আমার না।বিজ্ঞান বলে বয়সের হেরফের একটি বড় কারন আমাদের বর্তমান সমাজের নারীদের বন্ধতার কিংবা বাচ্চা হওয়াতে বিভিন্ন সমস্যা ফেস করার। সুতরাং! লাইভ ফ্রি ব্যালেন্স থাকে আমাদের বুঝতে হবে আর এটি সম্ভব অন্য মানুষকে কনভেন্স করার ক্ষমতা রাখতে পারলে।

কারণ আপনি যদি আপনার জীবন সঙ্গীকে এবং আপনার জীবনসঙ্গী পরিবারকে সাধারণ ভাষায় বললে আপনার স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোককে যদি একবার কমেন্ট করে ফেলেন তাহলে আপনার সামনে জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যাবে যেমনটা একটা মেয়ের বিয়ের আগের জীবনকে সহজ থাকে তার বাবার বাড়িতে।

প্রতিবেদক : আচ্ছা আপনি তো প্রোএকটিভ মাইন্ড নিয়ে আজ সব অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আমাদের সমাজের জন্য আপনার কাজের তৎপরতা কেমন, যদি ব্যাখ্যা করে বলতেন?

দেখুন আমার একটি পছন্দের বিষয় হচ্ছে মানুষের মন নিয়ে পড়াশোনা করা।আর যেহেতু আমি আইন নিয়ে পড়াশোনা করছি সেহেতু ক্রিমিনাল মাইন্ড থেকে শুরু করে চাইল্ড মেন্টালিটি পর্যন্ত আমাকে বুঝতে হয় এবং আমি বোঝার চেষ্টা করি। তা নিয়ে আমি অনেক বেশি রিসার্চ করার চেস্টা করেছি। আমি সাইকোলজির একটা কোর্স ও করেছি এবং অনেক কিছু অনেক পর, অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পরে এখন যেটা করতে সক্ষম হয়েছি সেটা হচ্ছে মানুষের পারসোনালিটি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে মানুষকে ট্রেন করতে পারি।বিশেষ করে রিলেশনশিপের উপর আমি বেশি কাজ করছি । কিভাবে নিজের ব্যক্তিত্বকে ঠিক করা যায় এমন এতোটুকু সুন্দর করা যায় যাতে আমাদের সম্পর্কগুলোকে গুছিয়ে রাখতে পারি। মানুষের মাইন্ড রিড করতে পারি। আপনি যদি আপনার সামনের মানুষটি মাইন্ড আন্ডারস্ট্যান্ড করতে পারেন তাহলে তার সাথে আপনার বোঝাপড়াটা হবে অনেক সুন্দর এবং দীর্ঘস্থায়ী। তখন যেকোনো ধরনের মানুষকে এবং যেকোনো বয়সের মানুষ কে আপনি আপনার বন্ধু করে তুলতে পারবেন। আর এটা আমরা সবাই জানি যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হচ্ছে খুবই ফ্লাক্সিবল। আরেকটু চিন্তা করে দেখুন আমাদের সমাজে বেশিরভাগ শ্বাশুড়ি এবং এবং বউয়ের সম্পর্ক হচ্ছে জটিল থেকে জটিলতর; কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আপনার সাথে আপনার শাশুড়ির সম্পর্ক যদি জটিল না হয়ে বরং হতো বন্ধুত্বের মত ফ্লাক্সিবল" তাহলে কিন্তু আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনাকে ভাবতে হত না।যেমন আপনার স্কুল যাওয়া নিয়ে আপনার থেকে বেশি আপনার মা ভেবেছিল। আমার এতোটুকুই বলার ছিল সকলের বোনদের প্রতি।

সমাজের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একটা মেসেজ তো পেতে পারি?

দেখুন আমাদের সমাজে অনেক বেশি বুদ্ধিমান বুদ্ধিমতী নারী পুরুষ রয়েছেন।আমার থেকে অনেক সাকসেসফুল নারী পুরুষ রয়েছেন। তবে আমি একটু একটা বিষয়ের সন্দিহান কে কতটুক সাকসেসফুল এবাউট দেয়ার রিলেশনশিপ। ওই জায়গাটা আমি ছোট্ট একটা পরামর্শ দিতে পারি সেটা হচ্ছে এখন আপনি যে ধরনের সম্পর্কে থাকেন না কেন অর্থাৎ আপনি একই সাথে একজন মা, কার স্ত্রী কারো পুত্রবধূ কারো কন্যা বিভিন্ন সম্পর্কে আপনি আছেন।

আপনাকে চেষ্টা করতে হবে আপনার সামনের ব্যক্তিটিকে আপনার প্রেমে ফেলে দেওয়ার, এখন আপনি বলতে পারেন এটা কেমন অদ্ভুত কথা।এটা অদ্ভুত নয় এটা সুস্থ মাথায় চিন্তা করা সত্য কথা।


দেখুন প্রেম আর ভালোবাসা কিন্তু এক নয়, এমন অনেক হাজারো হয়েছে এবং হাজারো সম্ভব যারা একে অপরকে অনেক ভালবাসলেও আজ একসাথে নেই।

আপনি কাউকে অনেক বেশি ভালোবাসেন কিংবা আপনাকে অন্য একজন ব্যক্তি অনেক বেশি ভালোবাসে কিন্তু আপনারা আর একসাথে নন নয়তো আর একসাথে থাকতে চাচ্ছেন না। কিন্তু ভেবে দেখেছেন এত ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও আপনারা কেন আলাদা কারণ হয়তো আপনি কিংবা ওপর ব্যক্তিটি হয়তো আপনারা দুজনই কেউ কারো প্রেমে ছিলেন না।

প্রেম হচ্ছে জিনের আছর এর মত। আপনাকে দিয়ে যা করাবে আপনি তাই করবেন যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনাকে হারাবে এবং আপনার হেরে ও মনে হবে আপনি জিতেছেন।একটা অদ্ভুত মায়া একটা ঘুমের ঘোর সবকিছু রঙিন স্বপ্ন স্বপ্ন ভালোবাসা ভালোলাগা কত শান্তি ।

এরকম পরিস্থিতি যদি রাখতে পারেন তখন কিন্তু সে মানুষটি কখন আপনাকে ছাড়তে পারবে না এবং আপনার তার সাথে সম্পর্ক হবে মধুময় যেহেতু সে আপনাকে ভালোবাসে।

এখন প্রেমে কিভাবে ফেলবেন প্রশ্ন হচ্ছে এটা ।
ব্যক্তিত্বের উন্নতি ঘটানো এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা সেগুলি নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে কথা বলব

ছোট ছোট টিপস-এন্ড-ট্রিকস যাতে আমাদের সুন্দর সম্পর্ক গুলো সারা জীবন সুন্দর থাকে। এবং যে সম্পর্ক গুলো আমাদের সুন্দর নয় কিন্তু তারা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের সাথে যাতে আমাদের সম্পর্কটাকে সুন্দর করে তোলা যায়।

সংসার জিবনে আপনার কিছু গুণের কথা বলুন?

আমার কি গুন আছে আমি কিভাবে বলব এটা বলতে পারবে আমার পরিবারের লোকজন। তবে আমার নিজের সম্পর্কে যদি বলতেই হয় তখন আমি একটি গুণের কথা বলতে পারব সেটি হচ্ছে আমি মানুষকে জাজ করতে পছন্দ করি না ।
মাদার তেরেসার একটি কথা হচ্ছে if you judge people then you dont have time to love them! সুতরাং আমি মানুষকে ভালোবাসতে পারি, মানুষের সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারি এটা আমার অনেক ভালো একটা গুন এতে খুব সহজে সব মানুষ অনেক বেশি কনভেনস হয়ে যায় এবং আমার সাথে সকল ধরনের কথা তারা শেয়ার করতে পারে এবং একই সাথে আমি তা হজম করার ক্ষমতা রাখি।

সর্বশেষ একটা কথাই বলতে চাই আমাদের উচিত, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে বরং সম্পর্ক সুন্দর করার চেষ্টা করা।

প্রতিবেদক : ধন্যবাদ আপনাকে।

খায়রুন নেসা শাহী : আপনাকেও ধন্যবাদ এত সুন্দর প্রশ্নগুলো করার জন্য।

এমকে/এজে

এমএসি/আরএইচ

Link copied