জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি: রিজভী
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত ০২:৪০
জ্বালানি সংকট নিয়ে লং মার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের ইতিবাচক কাজ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই এ কর্মসূচি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ঢাকা) আয়োজিত পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
জ্বালানি সংকট আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংকটের জন্য বিএনপি সরকার দায়ী নয়। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, ‘এই সংকটটা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক কারণে, যুদ্ধের কারণে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কারণে। এটা সবাই জানে, যে এলাকা দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আসার কথা, সেই জায়গাটা এখন যুদ্ধের বোমার মধ্যে পড়েছে এবং এক ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কোনো জ্বালানি তেল আসতে পারছে না। এর মধ্য দিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে এবং কিছু বিকল্প উৎস পেয়েছেও। মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং সেখান থেকে জ্বালানি আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং অন্যান্য জ্বালানির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।
বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকার ইতিবাচক রাজনীতি করছে এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ জনগণের কাছে ইতিবাচক হিসেবে ধরা পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলে রাজনৈতিক শূন্যতা ও রাজনীতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেটি মানুষের সামনে তুলে ধরতে তারা লং মার্চের কর্মসূচি নিয়েছে। তবে এ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এটি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার সেই পথে হাঁটছে কি না, তা সাংবাদিকেরাই জানেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে বাংলাদেশকে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান সফর করেছেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও বাড়বে। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি হয়েছে, এখন সেগুলো কার্যকর করার বিষয়টি দেখতে হবে। এসব উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।
এর আগে চীন সফরেও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ ও গতিশীল নেতৃত্বের ভূমিকা আড়াল করতে বিরোধীরা এসব কর্মসূচি নিয়েছে। এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়েও তারা কথা বলতে পারছে না। সমাজে যারা বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে, তাদের দমনে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে বিভিন্ন ধরনের কিশোর অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
রিজভী প্রশ্ন করেন, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে ভালো পরিস্থিতি আগে কখনো ছিল কি না, তা বিরোধীদের বলতে হবে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে, তাদের কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করছে না। এ কারণে জনপ্রিয় ও মন্ত্রণালয়ের কাজে সক্রিয় মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের গতিশীল ভূমিকা ও তৎপরতা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
এমএসি/আরএইচ