তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ০৮:৫৭


তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতও রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ—কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

সংসদ ও সংসদের বাইরে সর্বজনীন আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি সর্বসম্মত কাঠামোয় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের মতামত নিয়েছে কমিটি

বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ দিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন দুই ধাপে করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরামর্শ পাওয়া গেছে। অন্যদেরও দ্রুত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে সংবিধান সংশোধনের আলোচনা শুধু গণমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান কমিটির সভাপতি। পর্যায়ক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। সবশেষে দেশের শীর্ষ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিশেষ কমিটি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনসভা বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো উপযুক্ত সংশোধনী প্রস্তাব এলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সেটিও বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কারণে বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সব পক্ষ যাতে সক্রিয় সংলাপে অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধন আইন প্রণয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না’—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড়। তবে সংসদে সব রাজনৈতিক পক্ষের বিকল্প প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এমএসি/আরএইচ

Link copied