স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ করে দিলে শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ০২:০৪


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘শুধু বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ করে দিলে ৭১ ও জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’
 
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেয়াল করছি, দেশের মানুষ খেয়াল করছে যে, বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ঠিক আছে, বিরোধিতা আপনারা করেন, কিন্তু আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা তাদেরকে যেমন দাওয়াত দেয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলের নেতাসহ তাদের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদেরকেও দাওয়াত দেয়া হয়েছে। আপনারা আজকে দাওয়াতে আসলেন না, ঠিক আছে, সরকারের এই মঞ্চে বসার দরকার ছিল না। কিন্তু সত্যিকারভাবে যদি আপনারা জুলাইকে ধারণ করেন আপনারা তো এসে জুলাই শহীদদের মানুষগুলোর সঙ্গেও বসতে পারতেন। কোথায়, আমরা তো আজকে আপনাদেরকে দেখছি না।’
 
তারেক রহমান বলেন, ‘এই মঞ্চে বসার দরকার নেই, ঠিক আছে- সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব রয়েছে, থাকুক দূরত্ব, যদি আপনারা দূরত্ব রাখতে চান, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যে মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধীদলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যে মানুষগুলোর জীবন উৎসর্গের কারণে, আহত হওয়ার কারণে, চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলের নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধীদলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন; সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না। আজকে যদি আপনারা এই মানুষগুলোর মাঝেও এসে বসতেন, আমরা তাহলে বুঝতে পারতাম যে আপনারাও জুলাইকে ধারণ করেন যেভাবে বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে।’
 
তিনি বলেন, ‘খুব সহজেই বলতে পারি একটি কথা, সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্য, ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোট নিয়ে যেমন আপনারা বিরোধীদলে বসেছেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে আজ আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছি। বিরোধীদল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব আর সরকারি দল মানে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নয়, সরকারি দল মানেই মনে করা হবে যে তারা মানুষের স্বার্থ দেখছে না-এটি বোধহয় দোষারোপ করা বা এই যে ব্লেমিং-এর যে রাজনীতি, এটি থেকে বোধহয় আমাদের এখন বের হয়ে আসা উচিত।’

এমএসি/আরএইচ

Link copied