দুই ব্যক্তিকে পুলিশ ভেবে দৌড় দেন তাহসিফ, জানাল পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ০৮:৪৯


বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। দ্বীপের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশের মতো দেখতে দুজনকে দেখে তারা দৌড় দেন। তবে দ্বীপের এ বক্তব্য সত্য হলে ওই দুজন আসলেই পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তাহসিফ যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তার সঙ্গে বন্ধু দ্বীপ ছিলেন। দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পিবিআই। তার দেওয়া সব তথ্য সরাসরি বিশ্বাস না করে প্রতিটি বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপ বলেছে, এখান থেকে এ রকম দুজন পুলিশের সঙ্গে ছিল। তাদের দেখে ওরা দৌড় দিয়েছে। এখন তারা কারা, তা আমরা যাচাই করে দেখবো। আদৌ কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ছিলেন কি না কিংবা কারও দায়িত্ব ছিল কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, দ্বীপ আগের দিন তাদের জানিয়েছিলেন, রাত ১২টার দিকে হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের সঙ্গে আলাদা হয়ে তারা দুজন দুদিকে চলে যান। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাহলে রাত ২টার দিকে তারা কেন ওই এলাকায় এসেছিলেন এবং গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাওয়ার কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

মো. এনায়েত হোসেন মান্নান আরও বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা জানানো হবে।

গত ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’ মাকে এ কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরদিন (২৮ অক্টোবর) তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।

নৌ-পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফ সাউরির বাসার নিচে গ্যারেজে আসেন। সেখানে প্রথমে তিনি মোটরসাইকেলে তার হেলমেটটি রাখেন। এরপর পাশেই নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে চলে আসেন তাহসিফ। এরপর দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বাইরে চলে যেতে দেখা যায়।

এমএসি/আরএইচ

Link copied