আফগানিস্তান-বাংলাদেশ টেস্ট: ড্রয়ে হতাশ শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ০১:০৫


আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। পুরো এক দিন হাতে পেয়েও প্রতিপক্ষের ৭ তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা। ম্যাচের এমন পরিণতিতে হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটারদের কৃতিত্ব দিতে কার্পণ্য করেননি তিনি। একই সঙ্গে এই ম্যাচকে ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখছেন টাইগার অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে শান্ত স্বীকার করেছেন, সারাদিন বোলিং করেও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পারাটা হতাশার। বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেগুলোকে উইকেটে রূপ দিতে পারেননি। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের ব্যাটাররা দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।

শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই হতাশাজনক। তবে আমার মনে হয়, আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সারাদিন কয়েকটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোকে উইকেটে পরিণত করতে পারিনি।’

টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো করলেও এই ম্যাচে স্পিনারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল অধিনায়কের। বিশেষ করে আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় স্পিনাররা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবেন বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না আসায় বিষয়টিকে শিক্ষা হিসেবে নিতে চান শান্ত।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের পেসাররা অসাধারণ কাজ করছে। এখানকার আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পিনারদের কাছ থেকে আমি সত্যিই ভালো কিছু আশা করেছিলাম। তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আগেই বলেছি, আফগানিস্তান অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’

পাঁচ দিন ধরে কঠিন টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা দলকে আরও পরিণত করবে বলেও বিশ্বাস শান্তর। তার মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বাংলাদেশের।

ম্যাচের ফল প্রত্যাশামতো না হলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট শান্ত। বিশেষ করে লিটন দাস আবারও রানে ফেরায় এবং মুশফিকুর রহিমের ধারাবাহিক ভালো ফর্মে থাকায় আশাবাদী তিনি। সামনে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় এই পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন অধিনায়ক।

শান্ত বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। এই ম্যাচের জন্য আমরা যে প্রস্তুতি ও পরিশ্রম করেছি, তা পরের সিরিজে কাজে দেবে। আমাদের ব্যাটিং ইউনিট যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি বিশেষভাবে খুশি। লিটন আবারও রান পেয়েছে, মুশফিকও দারুণ ফর্মে আছে। দলের জন্য এটা খুবই ইতিবাচক।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ও সামনে থাকা ম্যাচগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও শান্ত মনে করেন, বর্তমান প্রস্তুতি ও দলের সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে লিটন দাসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যাট হাতে দেড়শ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ে একাধিক ডিসমিসালে অবদান রাখেন তিনি। লিটনের এমন পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন শান্ত।

অধিনায়কের মতে, লিটনের দক্ষতা কেবল এই ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং দুই বিভাগেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রেও লিটনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন শান্ত।

তিনি বলেন, ‘লিটন এই ম্যাচে যা করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। তবে শুধু এই ম্যাচ নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সে উইকেটের পেছনে এবং ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ করছে। এমন কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করার পর ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করা তার মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। আশা করি, ব্যাট ও গ্লাভস দুই জায়গাতেই সে এই ফর্ম ধরে রাখবে।’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে হাসান মাহমুদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেও মুগ্ধ অধিনায়ক। প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন দুই ক্ষেত্রেই হাসানের কার্যকারিতা তাকে সন্তুষ্ট করছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে উপমহাদেশ, বিভিন্ন পরিবেশে বল হাতে দলের জন্য অবদান রাখায় এই পেসারকে বিশেষ প্রতিভা হিসেবে দেখছেন শান্ত।

তিনি বলেন, ‘আমি যখনই হাসানের হাতে বল তুলে দিই, সে দলের জন্য ভালো কিছু করে। কন্ডিশন যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়া কিংবা উপমহাদেশ সে অসাধারণ পারফর্ম করছে।’

শুধু হাসান নন, বাংলাদেশের পুরো পেস ইউনিটের প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক। ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদ ও শরীফুল ইসলামের পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। শান্তর আশা, পেসাররা এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামী দিনগুলোতেও দলকে সাফল্য এনে দেবেন।

এমএসি/আরএইচ

Link copied