মেসি দানবীয়, কিন্তু পেলের ধারেকাছেও নেই: রোমারিও

ক্রীড়া ডেস্ক

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ০১:১৮


আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে 'সর্বকালের সেরা' নিয়ে চিরন্তন বিতর্ক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের লড়াই পেরিয়ে এবার মেসির সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের তুলনা টানছেন ফুটবলবোদ্ধারা। তবে এই বিতর্কে পেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোমারিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান প্রজন্মের মহাতারকা মেসি যতই অসাধারণ হোন না কেন, পেলের ধারেকাছেও তিনি নেই।

ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ও দিয়া’-তে লেখা এক বিশেষ কলামে রোমারিও এই মন্তব্য করেন। কলামে নিজের মতামত তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘মেসি কি পেলের চেয়ে বড়? মেসি একজন দানবীয় খেলোয়াড়, কিন্তু পেলের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। গতি, কৌশল ও নিখুঁত দক্ষতার এমন অনন্য সমন্বয় আর কারও মধ্যে দেখা যাবে না। মেসির প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। সে সর্বকালের সেরাদের একজন। কিন্তু ৫০ বছর আগেই পেলে তার সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ফুটবল খেলতেন!’

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যে অনন্য এবং তিনি যে সর্বকালের অন্যতম সেরা—তা স্বীকার করতে কার্পণ্য করেননি রোমারিও। তবে পেলে যে ফুটবলের এক অনন্য নক্ষত্র এবং তার অগ্রণী ভূমিকার সমকক্ষ কেউ নেই, সেটিই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন ব্রাজিলের হয়ে ৭০টির বেশি ম্যাচে ৫৫ গোল করা এই স্ট্রাইকার। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেবার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ব্রাজিল। এ ছাড়া ক্লাব ফুটবলে পিএসভি আইন্দহোভেন ও ইয়োহান ক্রুইফের অধীনে বার্সেলোনায় দারুণ সময় কাটিয়েছেন রোমারিও।
 
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচের স্মৃতিও নিজের কলামে তুলে ধরেছেন রোমারিও। ২০০৫ সালে গুয়াতেমালার বিপক্ষে তিনি ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটি খেলেছেন। অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার ওই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেছিলেন। গোল উদযাপনের সময় মেয়ের প্রতি উৎসর্গ করা বিশেষ একটি বার্তাও তুলে ধরেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।
 
সেদিনের কথা স্মরণ করে রোমারিও লিখেছেন, ‘সেদিন ছিল ভীষণ আবেগের একটি দিন। জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ গোলটি করার পর আনুষ্ঠানিক জার্সির নিচে পরা একটি শার্ট দেখিয়েছিলাম। তাতে লেখা ছিল– “ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত আমার একটি ছোট্ট মেয়ে আছে, যে একজন ছোট্ট রাজকন্যা।” সেটি ছিল ফুটবলের সঙ্গে আইভির পরিচয়ের মুহূর্ত। তখন তার বয়স ছিল মাত্র এক মাস।
 
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়বেলার আবেগের সঙ্গে যেন নিজের সেই স্মৃতির দারুণ এক মিল খুঁজে পান রোমারিও। সম্প্রতি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ৯০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ১২৬তম গোলটি করেন মেসি। বিদায়ী ম্যাচে তিনি আরও দুটি অ্যাসিস্ট করেন। এরপর অশ্রুসিক্ত নয়নে ও সতীর্থ-সমর্থকদের ভালোবাসায় জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি।
 
ম্যাচ শেষ অশ্রুসিক্ত সমর্থক ও সতীর্থ-কোচদের সামনে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, আবারও এখানে ফিরতে চাইব। কারণ একজন ফুটবলারের জীবনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’ 

পরদিন ইনস্টাগ্রামে একটি কৃতজ্ঞতামূলক বার্তায় বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লেখেন, ‘সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন সবকিছু সম্পন্ন। হৃদয় থেকে আসা একমাত্র কথা হলো– ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা।’

মেসির ক্যাবিনেটে রয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ সালের দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক গোল্ড মেডেল এবং ২০০৫ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ। তা সত্ত্বেও, ফুটবলের সর্বকালের সেরা তালিকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, সেখানে নিজের স্পষ্ট রায় জানিয়ে দিয়েছেন রোমারিও। আর তিনি বেছে নিয়েছেন পেলেকেই।

এমএসি/আরএইচ

Link copied