অক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ২৮৭ কোটি ডলার
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত ০৯:০০
প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ডলারেরও বেশি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। টাকার হিসাবে যা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে হিসাবে চার মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই মাসে এসেছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। অক্টোবরের শেষ তিন দিনে (২৯-৩১ অক্টোবর) দেশে এসেছে ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এর আগে জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলারে নেমে আসে। অক্টোবর মাসে আবারও বেড়ে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টে প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে সেপ্টেম্বরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসে। অক্টোবরে আবার প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ, গত চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে আগস্টে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে যাওয়ায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অক্টোবরে আবারও রেমিট্যান্স বাড়ায় সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, পারিবারিক ভোগব্যয় ও বিনিয়োগেও প্রবাসী আয়ের বড় অবদান রয়েছে।
গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবাসী আয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক প্রবাহে ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা বিবেচনায় সামনের মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমএসি/আরএইচ